eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
কালিতলা মন্দিরের মাঠ দখল কাঠ ব্যবসায়ীদের: শত বছরের রথযাত্রা অনিন্চিত
আপডেট: ০৪:২৮ pm ১৩-০৭-২০১৮
 
 


নওগাঁ শহরের কালিতলায় শ্রীশ্রী বুড়াকালিমাতা পূজামণ্ডপের মাঠ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ফলে রথযাত্রা উৎসব হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। শনিবার থেকে এ উৎসব শুরু হওয়ার কথা।

কালিতলা মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় শত বছর ধরে শহরের কালিতলা এলাকায় ৬৫ শতক জায়গায় কালিতলা মন্দির কমিটির আয়োজনে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। ওই জমিটি দুবলহাটি জমিদার রাজা হরনাথ রায় চৌধুরী কালিতলা মন্দিরের নামে দেবোত্তর সম্পতি হিসেবে দান করেন। ১৯২০ সালের সিএস ও ১৯৭২ সালের এসএ রেকর্ডে জমিটি মন্দিরের নামে থাকলেও ১৯৭২ সালের আরএস রেকর্ডে জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত দেখানো হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মন্দির কমিটি ওই জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ ও জমিটির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সালে আদালত ওই জমির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। এক সময় ওই জায়গাটি নওগাঁ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মন্দির কমিটির কাছ থেকে ইজারা নিয়ে সেখানে গরুর হাট বসাত। কিন্তু ২০০৮ সালের পৌরসভা আর ওই স্থানটি ইজারা নেয়নি এবং সেখান থেকে গরুর হাট সরিয়ে শহরের বরুণকান্দি এলাকায় বসতে শুরু করে।

সম্প্রতি স্থানীয় কিছু কাঠ ব্যবসায়ী ওই স্থানটিতে ‘স’ মিল স্থাপন করে ব্যবসা করতে শুরু করে। মন্দির কমিটির লোকজন বাধা দিতে গেলে তারা ওই জায়গা পৌরসভার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে বলে জানায়। চলতি বছর রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে মাঠটি ফাঁকা করে দিতে মন্দির কমিটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া রথযাত্রা হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে।

এ ব্যাপারে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমরা এত দিন জানতাম এই জায়গা পৌরসভার। আগে পৌরসভা আমাদের কাছে থেকে এখানে ব্যবসা করার জন্য ভাড়াও নিত। কিন্তু এক বছর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ ভাড়াও নিচ্ছে না। এখন হুট করে মন্দিরের লোকজন আমাদের এখান থেকে সরে যেতে বলছে। এখন আমরা কোথায় যাব? তবে পৌরসভা আমাদের এখান থেকে উঠে যেতে বললে আমরা চলে যাব।’   

নওগাঁ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাসান ইমাম তমাল বলেন, ‘ওই জায়গা তো পৌরসভার নয়। পৌরসভা কখনোই ওই জায়গা কাউকে ভাড়া দেয়নি। তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষ কিভাবে কাঠ ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে বলবে। এটা মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাঠ ব্যবসায়ীদের বিরোধ। তার পরও বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক মজনুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

নি এম/