eibela24.com
শনিবার, ১৭, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
আদালতে স্বীকারোক্তি
স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষকে একাই ৭ টুকরা করে পিন্টু
আপডেট: ০৫:৫৬ pm ১৫-০৭-২০১৮
 
 


স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে একাই হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন বন্ধু পিন্টু দেবনাথ। হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করা, সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক  বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। হত্যার কারণ হিসেবে জবানবন্দিতে পিন্টু বলেছেন, অর্থ, বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার ও দোকান আত্মসাতের পরিকল্পনায় বন্ধু প্রবীরকে হত্যা করেন। নারীর প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধু প্রবীরকে বাসায় ডেকে হত্যার পর লাশ ৭ টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।

শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যার মূল আসামি পিন্টু দেবনাথের স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে প্রবীর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ৭ টুকরো করা এবং হত্যার আলামত গুম করার বিস্তারিত বর্ণনা দেন পিন্টু দেবনাথ। ৫ দিন রিমান্ডের শেষ দিন ছিল শনিবার।

গত মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পিন্টু দেবনাথ ও তার কর্মচারী বাপন ভৌমিককে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে পিন্টু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। পরে শনিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম পিন্টুকে আদালতে নিয়ে আসেন।
আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগে ৩ ঘণ্টা সময় দেন পিন্টুকে এবং বলে দেন ভালো করে ভেবেচিন্তে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য এই সময় দেওয়া হলো। বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়লার ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে শুরু করেন তিনি। রাত ৮টায় আদালতে পিন্টুর জবানবন্দি রেকর্ড সম্পন্ন হয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পিন্টু জানান,  ঈদের দুই দিন পর এলাকা নীরব থাকায় প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে মেয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফোনে ডেকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে আসেন। সেখানে একত্রে তারা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে থাকেন। আপ্যায়নে বিস্কুট ও স্প্রাইট দেন প্রবীরকে।  বিস্কুট ও স্প্রাইট খেতে খেতে ফুটবল খেলায় মগ্ন হয়ে যান প্রবীর। এ সময় পেছন থেকে প্রবীরের ঘাড়ে চাপাতি দিয়ে কয়েকটি কোপ দেন পিন্টু। বিছানায় লুটিয়ে পড়েন প্রবীর।
আহত প্রবীর গোঙাতে থাকলে তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার মধ্যেই হত্যা করা হয় প্রবীরকে। হত্যার পর বিছানার ওপর পড়ে থাকে প্রবীরের মোবাইল ফোন। শরীর ঢেকে দেয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে প্রবীরের লাশ বিছানা থেকে ফ্লোরে নামানো হয়।

পিন্টু আরো জানান, এর পর চাপাতি দিয়ে তার দেহকে ৭ টুকরো করেন। বাজার থেকে আগেই কেনা ৪টি আকিজ সিমেন্টের ব্যাগে প্রবীরের ফ্লোরের রক্ত ধুয়ে ফেলেন। ঈদের ছুটি থাকায় নীরব পরিবেশে আনুমানিক সাড়ে ১১টায় বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকে ৫ টুকরো ঢোকাতে শুরু করেন। কিন্তু দুপায়ের নিম্নাংশ ভরা ব্যাগটির জায়গা হচ্ছিল না। জায়গা না হওয়ায় বাড়ির উত্তর পাশের রাস্তায় ময়লার স্তূপে ফেলে দেন। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে ফেলে দেন রক্তমাখা বালিশ, খাটের চাদর, প্রবীরের রক্তমাখা জামাকাপড় ভরা ব্যাগটি। রাত সোয়া ১২টার মধ্যে প্রবীরকে হত্যা ও লাশ গুমের কাজ সম্পন্ন করেন পিন্টু।

রাত সোয়া ১টার দিকে প্রবীর ও পিন্টুর বন্ধু উত্তম সাহা, গোপীনাথ ও উত্তম রায়ের সঙ্গে প্রবীবের বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসায় যান। পরিবারের কাছে তারা জানতে চান প্রবীর বাসায় ফিরেছে কিনা? কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষার পর বন্ধুদের সঙ্গেই ৩ তলা বাসা থেকে নেমে আসেন। পরে পিন্টু দেবনাথ চলে আসেন ঘটনাস্থল আমলাপাড়া ঠান্ডু মিয়ার দ্বিতীয় তলার ভাড়াবাসায়। পরদিন ১৯ জুন বাপনকে ডেকে নিয়ে তাকে মোবাইল ফোনটি দিয়ে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় গিয়ে প্রবীরের ভাইকে একটি মেসেজ দিতে বলেন।

এদিকে শনিবার দুপুর দেড়টায় পুলিশ পিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে কালীরবাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে পিন্টু স্বর্ণ শিল্পালয় দোকান খোলেন। এ সময় সেখান থেকে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি ১০ আনা ৩ রতি স্বর্ণলঙ্কার জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বন্ধকি স্বর্ণগুলো পুলিশ একটি ব্যাগে ভরে মুখ সিলগালা করে দোকানের ভেতরে রেখে দেয়। পরে দোকানটিও সিলগালা করে দেয় পুলিশ।

এদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতারা পুলিশকে জানিয়েছে, বন্ধকি স্বর্ণের বেশ কিছু নারী গ্রাহক তাদের স্বর্ণ ফেরত নিতে আসছে। তারা তাদের বন্ধকি স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চায়।

নি এম/