eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
তাঁতীবাজারে রথযাত্রা উপলক্ষে গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা
আপডেট: ০৫:৫৬ pm ১৯-০৭-২০১৮
 
 


ঢাকা তাঁতীবাজারস্থ রথযাত্রা মহোৎসব র্দীঘ ১১৭ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রথযাত্রা কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মন্দির পরিচালনা পরিষদ। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ৯ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান সাজিয়েছেন। গত ১৪ জুলাই ২০১৮ ইং তারিখ হতে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয় এবং অনুষ্ঠানটি চলবে আগামী ২২জুলাই ২০১৮ইং তারিখ পর্যন্ত। রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিঁউ ঠাকুর মন্দির পরিচালনা পরিষদ। উক্ত মন্দিরে স্বর্নের জগন্নাথ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিঃ শ্রী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতি,পরিচালক এফবিসিসিআই, চেয়ারম্যান- তারা দেবী ফাউন্ডেশন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক-ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড জগন্নাথদেবের স্বর্নের পাদুকা প্রদান করেন। স্বর্নের জগন্নাথ দর্শন করার জন্য প্রতিদিন অনেক ভক্ত আসেন। রথযাত্রার শুভ উদ্ধোধক ছিলেন শ্রী স্বামী শান্তিকরানন্দ কিশোর মহারাজ, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ঢাকা বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথি  শ্রী রঞ্জন বিশ্বাস(বীর মুক্তিযোদ্ধা) কাউন্সিলর ৩৬ নং ওয়ার্ড। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপত্বিত করেন শ্রী বাবুল দাস।

রথযাত্রার ২য় দিন ১৫জুলাই ২০১৮ইং রোজ রবিবার শুরু হয় গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা। গীতা পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা চিন্তা করে  শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিঁউ ঠাকুর মন্দির- ১৭, বাঁশী চন্দ্র সেন পোদ্দার ষ্ট্রীট(তাঁতী বাজার) ঢাকা -১১০০, বিভিন্ন সেবা মূলক কর্মকান্ড হাতে নিয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ”শ্রীশ্রী জগন্নাথ গুরুকুল বিদ্যালয়” যেখানে র্দীঘ ২৮ বছর ধরে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয়  শিক্ষা দেওয়া হয় যেমন, গীতা পাঠদান, সংগীত, চিত্রাংকন, নৃত্য, কম্পিউটার প্রশিক্ষন, প্রতি শ্রুক্রবার সকাল ৯.০০টিকা হতে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি বিষয়ের উপর রয়েছে আলাদা আলাদা শিক্ষক।  বর্তমানে গীতা শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রকাশক, প্রচারক ও বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘের সভাপতি - গীতা পাঠক শ্রী ধ্রুব চৈতন্য।  গীতা শিক্ষালয়ে  পাঠ্য পুস্তক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ঢাকা স্বামীবাগস্থ বাংলাদেশ লোননাথ গীতা প্রচার সংঘের গীতা । সমাজ সংস্কার তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা চিন্তা চেতনার উন্মেষের জন্য এক মাধ্যম হচ্ছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিঁউ ঠাকুর মন্দির পরিচালনার পরিষদ গীতা শিক্ষার উপর জোড় দিয়েছেন। যেখানে প্রতিশুক্রবার ১০০জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হয়। প্রত্যেকের জন্য গীতা শিক্ষা ব্যধ্যতামূলক করেছেন। উক্ত গীতা ক্লাসে শুদ্ধভাবে পাঠ, মূখস্থ করানো, উচ্চারণ ও আলোচনা অনুষ্টুপ্ ছন্দে গীতা শিখানো হয়। 

অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে সঞ্চালন করেন অরুন সাহা ভানু-  অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিঁউ ঠাকুর মন্দির পরিচালনার পরিষদের সভাপতি, সনাতনী চিন্তাবিদ, সনাতনী অলংকার শ্রী যুক্ত বাবুল দাস। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেনঃ- শ্রী প্রদীপ দে খোকন- সহ-সভাপতি, শ্রী তারক বড়াল-সাধারণ সম্পাদক, শ্রীমতি সঞ্চিতা দাস-উৎসব সম্পাদিকা, শ্রীমতি চিনু রানী বিশ্বাস- সহ-সাংকৃতিক সম্পাদিকা। উপস্থিত অতিথিগণ গীতাপাঠ প্রতিযোগিদের অনেক প্রসংসা করেন। ছোট ছোট শিশুদের গীতার প্রতি আগ্রহ দেখে অতিথিগণ মূগ্ধ হয়ে যান। তারা বলেন এ বয়সে আমরা কোন ভাবেই এই সুযোগ পাইনি কিন্তু তোমরা পেয়েছো, এক দিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। প্রতিযোগিদের  পাঠে  হৃদয়ে যেন এক স্বর্গীয় শিহরণ অনুভূত হয় । 

গীতাপাঠ প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেনন শ্রী ধ্রুব চৈতন্য, শ্রী কে.পি. চৌধুরী ও শ্রীমতি অর্পনা কর্মকার। শ্রী ধ্রুব চৈতন্য বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায়  শিক্ষিত করার জন্য ইংলিশ কোসিং এ ভর্তি করাচ্ছি, সাহিত্য ও সংকৃতি চর্চার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত কিন্তু গীতা শিক্ষার জন্য কোন সময় ব্যয় করছি । মানুষ যত বড় শিক্ষিত হউক না-কেন যতক্ষন পর্যন্ত ব্রহ্মবিদ্যা অর্জন না করবে, সে মুক্তি লাভ করবেনা। জড়-জাগতিক বিদ্যা দিয়ে ভগবানকে দর্শন করা যায় না। ভগবানকে দর্শন লাভ করতে হলে ব্রহ্মবিদ্যা অর্জন করতে হবে। মানুষ যদি গীতা পাঠ করে তবে তার মন ও আত্মা শুদ্ধ হবে সে আর বিপথ গামী হবে না এবং কোন অন্যায় অত্যাচারে লিপ্ত হবে না। মানুষের মধ্যে সুখ শান্তি ফিরে আসবে। 

নি এম/মনিকা