eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
খরতাপে পুড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠ-ঘাট
আপডেট: ০৭:০০ pm ২০-০৭-২০১৮
 
 


প্রচন্ড তাপদাহ ও বৃষ্টির অভাবে পুড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠ-ঘাট। অসহনীয় গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে চলতি আমন চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে। নদী-নালা, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় রোদে পুড়ে মাছ  মরছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠা নামা করছে এ জেলায়। 

জেলা মৎস্য কজর্মকর্তা ড. মুহা. নিয়াজউদ্দিন বলেন, খরতাপে নদী-নালা, খাল- বিলের মাছ মরে ভেসে উঠছে। সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি নতুন পাড়া গ্রামের আল আমিন জানান, তারা গত দু দিনে খাল-বিল থেকে দেশী প্রজাতির প্রচুর মরা মাছ সংগ্রহ করেছেন। 

জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার স্কুলের হাট রত্নাই গ্রামে শরিফুল ইসলাম বলেন পানির অভাবে তিনি আমন রোপন শুরু করতে পারেননি। একই গ্রামের মজিবর রহমান বলেন বৃষ্টির অভাবে লাঙল-জোয়াল ঘরে রেখেছেন। আমন চাষ শুরু হয়নি এলাকায় বলে জানান তিনি। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৪১ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ১৬ জুলাই পর্যন্ত ৭ হাজার ৪শ’৭০ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপন হয়েছে। তবে সদ্য রোপন কৃত চারাগাছ গুলো পানির অভাবে মরতে বসেছে।  

বেসরকারি সংস্থা আর ডি আর এস বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, জেলার হরিপুর, রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলার নিচু জমিতে সামান্য পরিমান আমনচাষ হয়েছে। তবে বালিয়াডাঙ্গী ও সদর উপজেলায় এখনও আমন চাষ শুরু হয়নি পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে। এপ্রিল-মে ও জুনের তৃতীয় সপ্তাহে প্রচুর বৃষ্টির হয়েছে। এর পর ছিটে ফোটা বৃষ্টি হয়। তবে তা কাজে আসে না। এ কারণে আমন রোপন পিছিয়ে পড়েছে। 

হঠাৎ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলে এই তথ্য জানান সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা কেউ ঘরের বাহিরে বের হচ্ছে না। 

বৈরি আবহাওয়া জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে । ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তোজাম্মেল হোসেন বলেন প্রচন্ড গরমে হিট ষ্ট্রোক সহ জ্বর-সর্দি ও শ্বাস কষ্ট এবং পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। 

শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শাহনেওয়াজ জানান, এ গরমে শিশুদের দুর্ভোগ বেড়েছে বেশি। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু-বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সের ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন এখনও যথেষ্ট সময় আছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। কৃষকদের পরার্মশ দেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে।

এসএইচ/বিডি