eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২২, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
রুদ্রাক্ষ ধারণ করার গুনাগুণ, কী জানায় সনাতন ধর্ম
আপডেট: ১০:৪৩ am ২১-০৭-২০১৮
 
 


রুদ্রাক্ষ আসলে একটি গাছের বীজ। যা পাহাড়ে পাওয়া যায়। অনেক উচ্চতায় পাওয়া যায়। বলা হয় রুদ্রাক্ষ ভগবান শিবের চোঁখের জলের থেকে সৃষ্টি হয়। এই রুদ্রাক্ষ অসাধারণ গুনে ভরা। মুনি ঋষিরা যারা হিমালয়ের গভীর পাহাড়ে ধ্যান করেন তারা রুদ্রাক্ষের বহু গুনের ব্যাপারে পরিচিত। হিমালয় অঞ্চলে গাছ কাটার ফলে আজকাল রুদ্রাক্ষের উৎপাদন কমে গেছে তাই দিনকে দিন এর চাহিদাও বাড়ছে। রুদ্রাক্ষ মালার বহু গুনাগুন আছে। বহু ঋষি, মুনি এবং সাধারণ মানুষজন রুদ্রাক্ষ ধারণ করে থাকেন রুদ্রাক্ষের গুণের ফল পেতে। তাহলে আজ জানা যাক রুদ্রাক্ষের কিছু গুন-

হার্টের সুরক্ষা করে
আমাদের হার্ট বিট এবং রক্তের চলাচলের ফলে একটা চৌম্বক শক্তির সৃষ্টি করে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। রুদ্রাক্ষে ডাইমাগ্মেটিজমের বৈশিষ্ট্য আছে। এর ফলে হার্টের ধমনী এবং শিরার মধ্যে রক্ত চলাচলকে বাড়িয়ে দেয়।

শুদ্ধ এবং বিষাক্ত জল এবং খাবারের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে
মুনি ঋষিরা অনেক উঁচু পাহাড় অঞ্চলে ধ্যান করে থাকেন। ওইসব উঁচু জায়গাতে প্রায়শই বিষাক্ত গ্যাস মিশে থাকে জল এবং ফল বা খাবারের মধ্যে। ওইসব বিষাক্ত গ্যাসে ভরা জল বা খাবার খেলে আমাদের শরীর খারাপ হতে বাধ্য। রুদ্রাক্ষ শুদ্ধ এবং বিষাক্ত জলের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে। জলের বা খাবারের মধ্যে রুদ্রাক্ষ দিলে যদি রুদ্রাক্ষটি দক্ষিণাবর্তে ঘোরে রুদ্রাক্ষটি তার মানে জলটিতে বা খাবারে কোনো রকেমের বিষ নেই। আবার রুদ্রাক্ষটি বামাবর্তে ঘুরলে বুঝতে হবে যে খাবারটি বিষাক্ত।

স্বাস্থ্যের উন্নতি করে
রুদ্রাক্ষের মধ্যে রয়েছে চুম্বকীয় শক্তি যা আমাদের শরীরে অনুভূমিক কম্পন পাঠায়। এই কম্পনের ফলে আমাদের শরীরে কিছু ইমপালস তৈরি হয়। তারফলে আমাদের ব্রেন কিছু কেমিক্যাল সৃষ্টি করে যা আমাদের বেশ কিছু শরীরের রোগ নিজে থেকেই সারাতে সাহায্য করে খুব তাড়াতাড়ি। এই কারণের জন্য রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে আমাদের শরীর এবং মন ভালো লাগতে শুরু করে।

শরীরের বহু রোগ দূর করে
চারমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে তা আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। বৃষচক কামড়ালে, রুদ্রাক্ষ কামড়ানোর জ্বালা থেকে মুক্তি দেয়। রুদ্রাক্ষটি কোনো শক্ত জায়গাতে ঘষে তারপর তার মধ্যে জল দিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে যদি কামড়ানোর জায়গাতে লাগানো যায় তাহলে কামড়ানোর জ্বালার অবসান ঘটে। খুবই তাড়াতাড়ি আমরা ভালো বোধ করি।

অশুভ  শক্তির থেকে আমাদের বাঁচায়
এইটা সত্যি যে অনেক সময় কয়েকজন মানুষ অশুভ শক্তির সাহায্য নেয় অন্য মানুষের ক্ষতির জন্য।রুদরাক্ষের মালা ধারণ করলে আমাদের  সুরক্ষা কবজ হয়ে দাঁড়ায় রুদ্রাক্ষ। অথর্ব বেদে বলা আছে যে, নেতিবাচক শক্তির ব্যাপারে আর এমন অনেক মানুষই আছে যারা অন্যদের ক্ষতি করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অশুভ শক্তি আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। তার ফলে আমরা এইসব অশুভ শক্তির কোপ থেকে রেহাই পাই।

জানলেন নিশ্চয়ই যে রুদ্রাক্ষের সাথে কত সুফল জড়িয়ে আছে। পুরোনো উপনিষদে রুদ্রাক্ষের গুণ সম্পর্কে অনেক প্রশংসা উল্লেখিত করা আছে। শুধু মুনি ঋষিরা না সাধারণ মানুষজনও রুদ্রাক্ষ ধারণ করে থাকেন। রুদ্রাক্ষের কথা আয়ুর্বেদেও উল্লেখ করা আছে। আয়ুর্বেদে  সঞ্জীবনীর আখ্যাও দেওয়া হয়েছে রুদ্রাক্ষকে। আমাদের বহু রোগের অন্ত ঘটায় রুদ্রাক্ষ। যেমন হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি, শরীরের উন্নতি ইত্যাদি। প্রার্থনার জন্যও অনেকে রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করে থাকেন।

রুদ্রাক্ষের ব্যবহার সম্পকে ভ্রান্ত ধারণা:

রুদ্রাক্ষ কেবল মাত্র সন্ন্যাসীরাই ধারণ করতে পারেন- এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। সংসারী ব্যক্তির রুদ্রাক্ষ ধারণে কোনও বাধা নেই।

রুদ্রাক্ষ ধারণের প্রকৃষ্ট সময় হল বার্ধক্য- না, তরুণ বয়সে রুদ্রাক্ষ ধারণ ভাল ফল দেয়। রুদ্রাক্ষ মনকে সংহত করে। ফলে তারুণ্যের উদ্দীপনার সঙ্গে যুক্ত হয় ভাবসৌন্দর্য।

ঘুমনোর সময়ে রুদ্রাক্ষ খুলে রাখা উচিত- এটিও ভুল ধারণা। রুদ্রাক্ষ তার ধারণকারীকে অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করে। রাত্রে ঘুমনোর সময়ে কী সেই রক্ষাবলয়কে দূর করে দেওয়া যায়!

স্নানের সময়ে রুদ্রাক্ষ খুলে রাখা উচিত- এটিও ঠিক নয়। জলের স্পর্শ রুদ্রাক্ষকে সতেজ রাখে। সেই সঙ্গে যদি দেহও সংস্পর্শে থাকে, তা হলে তা অতি উপকারী।

রুদ্রাক্ষ ধারণ করে আমিষ ভক্ষণ উচিত নয়- একেবারেই ভুল ধারণা। খাদ্যাভ্যাস শরীরী বিষয়। আর রুদ্রাক্ষ ধারণ করা হয় আধ্যাত্মিক কারণে।

নি এম/