eibela24.com
বুধবার, ১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরার চাঁই বিক্রি করে স্বাবলম্বী ১শ’টি পরিবার
আপডেট: ০৩:৩১ pm ২৪-০৭-২০১৮
 
 


বর্ষাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করা হচ্ছে মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ চাঁই। সদর উপজেলা সোনা চালনী গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেছে হস্তশিল্প চাঁই। তবে চাঁই তৈরির উপকরণের দাম বাড়ায় নানা কারণে হস্তশিল্পটিকে ধরে রাখতে কষ্টকর হয়ে উঠেছে জড়িত এ পেশার কারিগরদের। মৌসুমের এসময়ে গ্রামের অনেকেই কর্মহীন হয়ে থাকে। বাড়তি রোজগার ও সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে ঘরে বসে না থেকে চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন সোনাচালনী  গ্রামের ১শ’টি পরিবার। কেউ কেউ এ পেশাটি বাড়তি রোজগারের উপায় হিসেবে নিলেও অনেকের আবার জীবিকার প্রধান মাধ্যম।

মাছ ধরার এ চাঁই তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় বাঁশ দিয়ে তৈরি এক বিশেষ ফাঁদ। গ্রামীণ জনপদে যাকে ছাই বা বৌচনা বলে ডাকা হয়। পরিবারে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও এই কাজে ব্যস্ত। এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। সদর উপজেলা বড় খোচাবাড়ী বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার সপ্তাহে হাঁটের দিন গুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত শত শত চাঁইয়ের বেচা-কেনা হচ্ছে। প্রতি ১০০চাঁইয়ের দাম ৫ থেকে সাড়ে ৫হাজার টাকা। তবে ছোট বড় প্রকারভেদে প্রতিটি চাঁইয়ে খরচ পড়ে ১৫০থেকে ২শত টাকা। আর তা বিক্রি হয় ২শত থেকে ৫শত টাকায়।

স্থানীয়রা ছাড়াও আশ-পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ শিকারী ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখানে চাঁই কিনতে আসেন।

চাঁই বিক্রেতা বেলায়েত হোসেন জানান, চাঁই তৈরি করতে বাঁশ কিনে আনতে হয় ১০০থেকে ১৫০টাকার দরে তা দিয়ে তৈরি হয় ৫থেকে ৬টা বৌচনা।  তবে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ বৃদ্ধির ফলে গত বছর তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। 

গড়েয়া হাট এলাকার চাঁই ক্রেতা নুরনবী সরকার বলেন, অনেক আগে থেকে খোচাবাড়ী হাটে চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে। তাই একটু দুর হলেও এখান থেকে চাঁই কিনতে এসেছি।

খুচরা বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, তিনি চাঁই প্রস্তুতকারীদের কাছ থেকে আকারভেদে বিভিন্ন দরে চাঁই কিনেন। গুনগতমান ভালো হওয়ায় আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন।

মৌসুমে এ পেশাকে  কুঠির শিল্পে সমৃদ্ধ করতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এ পেশায় জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

নি এম/মো.সাদ্দাম