eibela24.com
শনিবার, ২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ভারতের বিখ্যাত কৃষ্ণ মন্দির সম্পর্কে জেনে নিন
আপডেট: ০৬:৫৮ pm ২৫-০৭-২০১৮
 
 


একনজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতের কোথায় কোথায় কৃষ্ণ মন্দির রয়েছে৷

১. বাঁকে বিহারি মন্দির: স্বামী হরিদাস বৃন্দাবনে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ বাঁকে বিহারী মন্দিরে ত্রিভঙ্গ হয়ে দাঁড়ানো কৃষ্ণ পূজিত হন। ঝুলন ও জন্মাষ্টমী উত্‍সবের জন্য বিখ্যাত মন্দিরের ঘুম ভাঙে সকাল ৯টায়। শুধুমাত্র জন্মাষ্টমীতেই মঙ্গল আরতি গাওয়া হয় এখানে।

২. দ্বারকাদ্বিশ মন্দির: কংস বধের পর দ্বারকাতেই নিজের রাজ্য স্থাপন করেছিলেন কৃষ্ণ। গুজরাতে প্রায় ২৫০০ বছর আগে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ মোট ৭২টি থামের ওপর তৈরি পাঁচতলা রাজধানী তৈরি করেন। 

৩. গুরুভায়ুর টেম্পল: কেরলে অবস্থিত গুরুবায়ুর মন্দির ভুলোকা বৈকুন্ঠ নামেও পরিচিত। ধরিত্রী মায়ের ওপর বিষ্ণুর মাটির ঘরে স্থাপিত মন্দিরকে দক্ষিণ ভারতের দ্বারকাও বলা হয়ে থাকে। বিশ্বাস করা হয় এই মন্দিরে স্বয়ং ব্রহ্মা শ্রীকৃষ্ণের পুজো করেন।

৪. যুগল কিশোর মন্দির: ১৬২৭ খ্রীষ্টাব্দে বেনারসের কাশী ঘাটে যুগল কিশোর মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। এই ঘাটেই কাশী রাক্ষসকে বধ করেছিলেন কৃষ্ণ। তাই এই মন্দির কাশী ঘাট মন্দির নামেও পরিচিত।

৫. কৃষ্ণ-বলরাম মন্দির: বৃন্দাবনে এই মন্দির সারা দেশের মধ্যে ইস্কনের আদি ও মূল মন্দির৷

৬. শ্রীকৃষ্ণ মঠ: কর্ণাটকের উদুপি শ্রীকৃষ্ণ মঠ অন্যতম উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণ মন্দির৷দক্ষিণ ভারতে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী মধ্যচার্য৷ দক্ষিণ ভারত বেড়াতে গেলে এই মঠ দর্শন অবশ্যই করা উচিত৷

৭. রাধা রমণ মন্দির: আজ থেকে ৬০০ বছর আগে বৃন্দাবনে রাধা রমণ মন্দির স্থাপন করেন গোপাল ভট্ট গোস্বামী। বৈশাখি পূর্ণিমার দিন শালগ্রাম শিলায় তৈরি স্বয়ম্ভু বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

৮. রঙ্গজি মন্দির: শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি মথুরায় দক্ষিণ ভারতীয় নির্মাণ পদ্ধতিতে তৈরি রঙ্গজি মন্দির। এখানে কৃষ্ণ পূজিত হন শেষনাগের ওপর উপবেসিত বিষ্ণুর রঙ্গনাথন অবতারে।

৯. অনন্ত বাসুদেব মন্দির: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী কালীমন্দির চত্বরে অবস্থিত একটি কৃষ্ণ মন্দির। ১৬৭৯ সালে রাজা রামেশ্বর দত্ত এই মন্দিরটি নির্মাণ করান। দেওয়ালের কারুকাজের জন্য বিখ্যাত অনন্ত বাসুদেব মন্দির। একরত্ন শৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরের চূড়াটি অষ্টভূজাকার। মন্দিরের গায়ে টেরাকোটায় রামায়ণ, মহাভারত ও কৃষ্ণলীলার ছবি খোদাই করা আছে।

১০. বালকৃষ্ণ টেম্পল: কর্ণাটকের এই মন্দির ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত করা আছে৷এই মন্দিরের অনন্য স্থাপত্য শিল্প পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়৷

১১. প্রেম মন্দির: আধ্যাত্মিক গুরু কৃপালু মহারাজ বৃন্দাবনে প্রেম মন্দির স্থাপন করেন। মার্বেল পাথরে তৈরি অসাধারণ মন্দির সনাতন ধর্মশিক্ষার কেন্দ্রস্থলও। বিভিন্ন মূর্তিতে শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিবরণ রয়েছে মন্দিরে। কৃষ্ণকে এখানে বহুরূপে পুজো করা হয়।

১৪. নিধিবন মন্দির: বৃন্দাবনের এই মন্দির আজও পর্যটকদের কাছে একই রকমভাবে আকর্ষিত৷শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এলে আপনি মুগ্ধ হবেনই৷ এই বনের সব গাছের শাখাই নিম্নমুখী৷ এই মন্দিরের দরজা বিকেলের পর বন্ধ হয়ে যায়৷ কথিত আছে, এখানে সন্ধ্যার পর থেকে শ্রীকৃষ্ণ রাধারানী ও তাঁর গোপীনীদের সঙ্গে লীলা খেলেন৷

১৫. মদন মোহন মন্দির: বৃন্দাবনের অন্যতম প্রাচীন মন্দির মদন মোহন। যমুনা তীরে অবস্থিত মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৮০ সালে। আদিত্য টিলার ওপর স্থাপিত মন্দিরের প্রকৃত নাম মদন গোপাল মন্দির। কথিত আছে এক বটগাছের নীচে মদন মোহনকে খুঁজে পেয়েছিলেন আদিত্য আচার্য।

১৬. পুরীর জগন্নাথ মন্দির: ভারতের অন্যতম পবিত্র ধর্মস্থান পুরী জগন্নাথ মন্দির। এখানে কৃষ্ণমূর্তি অন্যান্য কৃষ্ণমূর্তির থেকে একেবারেই আলাদা। নিমকাঠের তৈরি জগন্নাথ এখানে ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে পূজিত। একাদশ শতকে রাজা অনন্ত বর্মন চোদাগঙ্গা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

বিডি