eibela24.com
বুধবার, ১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
বিষ্ণু ও কৃষ্ণ রূপান্তরকামী হয়েছিলেন!
আপডেট: ১০:০৪ pm ২৭-০৭-২০১৮
 
 


রূপান্তরকামীদের তৃতীয় লিঙ্গ (transgende) হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে৷ কিন্তু সমাজের মূল স্রোতে একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসাবে তাঁদের স্বীকৃতি এখনও অধরা৷ 'রূপান্তরকামনা', এই শব্দটি যে কালের হাওয়ায় ভেসে আসা কোনও আমদানি শব্দ নয় তা অনেকেরই অজানা৷ প্রাচীন কালেও লিঙ্গ পরিবর্তনের নিদর্শন মিলেছে।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী স্বয়ং ভগবান শ্রী বিষ্ণু একাধিকবার নারীতে রূপান্তর হয়েছেন ও সন্তানের জন্ম দিয়েছেন! সমুদ্র মন্থন ক'রে অমৃত পাওয়া গেলে সেই অমৃত নিয়ে দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে দন্দ্ব বাধে, দন্দ্ব নিরসনে স্বয়ং বিষ্ণু মোহিনী মায়ায় স্ত্রী রূপ ধারণ করে দানবদের কাছে যান, দানবরা বিষ্ণুর মোহিনী রূপ দেখে মোহিত হয়ে তাকে বিশ্বাস করে তাঁর হাতে অমৃত সমর্পণ করে। মোহিনী রূপী বিষ্ণু দেবতা এবং দানবদের শ্রেণীবদ্ধভাবে বসিয়ে উভয়ের মধ্যে অমৃত সমবণ্টন করার নামে ছলনা ক'রে তিনি শুধুমাত্র দেবতাদেরকেই অমৃত পান করাছিলেন আর অসুরদেরকে পান করাচ্ছিলেন সোমরস। দানব রাহু মোহিনীরূপী বিষ্ণুর এই ছলনা ধরতে পারে, সে চুপিসারে দেবতাদের মধ্যে গিয়ে বসে পড়ে আর মোহিনীরূপী বিষ্ণুও রাহুকে দেবতা মনে করে অমৃত দান করেন।

চন্দ্র এবং সূর্য রাহুকে চিনতে পেরে মোহিনীরূপী বিষ্ণুকে ব'লে দেন আর সঙ্গে সঙ্গে বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর মুণ্ডচ্ছেদ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে অমৃত রাহুর পেটে চলে যাওয়ায় মুণ্ডু আর ধর বিচ্ছিন্ন হলেও সে অমরত্ব লাভ করে। তখন থেকেই চন্দ্র এবং সূর্যের সঙ্গে তার চিরশত্রুতার শুরু, রাহুর চন্দ্র-সূর্য গ্রহণ। রাহুর মুণ্ডচ্ছেদের পর বিষ্ণু মোহিনীরূপ ত্যাগ ক'রে স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে দেবতাদের সঙ্গে দানবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
এছাড়াও, দূর্গা যখন মহিষাসুর বধ করেন, তখন মহিষাসুরের বোন মহিষী বদলা নেওয়ার শপথ ক'রে ব্রহ্মার তপস্যা শুরু করে। তার তপস্যায় সন্তুষ্ট ব্রহ্মা

বর দিতে চাইলে সে বললো, 'কেউ যেন আমাকে যুদ্ধে হারাতে এবং বধ করতে না পারে।'
বিব্রত ব্রহ্মা জানালেন, 'তা কী ক'রে সম্ভব! তুমি অন্য বর চাও।'
কিন্তু মহিষী অটল, সে তার অভীষ্ট বর-ই চায়।
তখন ব্রহ্মা তাকে এই বর দিলেন, 'দু'জন পুরুষের মিলনে উত্‍পন্ন সন্তান ব্যতিত অন্য কেউ তোমাকে পরাজিত বা বধ করতে পারবে না।' মহিষী খুব খুশি হয়৷ কারণ সে জানে যে, দু'জন পুরুষের মিলনে সন্তান জন্মানো অসম্ভব, ফলে তাকে বধ করাও কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর মহিষী স্বর্গ আক্রমণ ক'রে দেবতাদের বিতাড়িত করে। সংকট নিরসনে দেবতারা ছুটে যায় শিবের কাছে।

ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব তখন ভাবতে থাকেন কী উপায়ে মহিষীকে বধ করা যায়। তখন বিষ্ণু মোহিনীরূপ ধারণ ক'রে মিলিত হলেন শিবের সঙ্গে। মোহিনীরূপী বিষ্ণু আর শিবের মিলনে জন্ম হলো অয়প্পানের। অয়প্পানই মহিষীকে বধ করে।
বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ, তিনিও মোহিনীরূপ ধারণ করে অর্জুন এবং নাগরাজকন্যা উলুপীর পুত্র ইরাবানকে বিয়ে করে তার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। অর্জুনপুত্র হওয়ায় স্বভাবতই ইরাবান কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে পাণ্ডবপক্ষের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন যুদ্ধে যাবার আগে কালীপূজা করতেন এবং কালীও ভক্তকে ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সপ্তম দিনে কালী ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আগামীকাল অর্থাত্‍ যুদ্ধের অষ্টম দিনে ইরাবানের মুত্যু হবে। মৃত্যু আসন্ন জেনে বিচলিত-ব্যথিত ইরাবান অর্জুনকে সব জানালেন। পুত্রের মৃত্যু আসন্ন জেনে অর্জুন দুঃখ পেলেন, পুত্রকে আলিঙ্গন ক'রে জানতে চাইলেন, 'পুত্র তোমার শেষ ইচ্ছে কী?'

ইরাবান তখন অর্জুনকে বলেন, 'পিতা, আমি যুবক, এখনো বিবাহ করিনি; কখনো নারী সংস্পর্শ পাইনি। মৃত্যুকালে এই অতৃপ্তি আমার থেকে যাবে।'
কিন্তু ইরাবানের মৃত্যু আসন্ন জেনে কোনও পিতাই তার সঙ্গে নিজের মেয়ের বিবাহ দিতে রাজি হয়নি।সেইসময় উগ্বিগ্ন পিতার চিন্তার নিরসন ঘটান স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ৷ নিজে মোহিনী রূপ ধারণ ক'রে ইরাবানকে বিয়ে এবং তার সঙ্গে মিলিত হন তিনি। তৃপ্ত ইরাবান পরদিন অর্থাত্‍ যুদ্ধের অষ্টম দিন যুদ্ধে গেল, প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করলেও রাক্ষস অলম্বুষের হাতে তার মৃত্যু হয়। ইরাবানের মৃত্যুর পর মোহিনীরূপী কৃষ্ণ শাস্ত্র অনুযায়ী বৈধব্য দশা পালন করেছিলেন। সেই থেকেই রূপান্তকামীদের মোহিনী বলা হয়৷


বিডি