eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২২, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
হেরেও জিতলেন কোহলি
আপডেট: ১০:২৬ pm ০৪-০৮-২০১৮
 
 


এজবাস্টন টেস্ট উপহার দিয়েছে অসাধারণ এক ক্রিকেট লড়াই। আর এই জমজমাট লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রইলেন কোহলি। প্রথম ইনিংসে ১৪৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১—এজবাস্টন টেস্ট বেশি মনে রাখতে হবে ভারতীয় অধিনায়কের লড়াকু দুটি ইনিংসের কারণে

কী রোমাঞ্চকর টেস্টটাই না হলো এজবাস্টনে। লড়াই পাল্টা-লড়াইয়ে মুগ্ধ করে গেল দুই দল। তবে যোদ্ধাদের মধ্যে যাঁর লড়াই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে—বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসে ১৪৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১—এজবাস্টন টেস্ট বেশি মনে রাখতে হবে ভারতীয় অধিনায়কের লড়াকু দুটি ইনিংসের কারণে। শেষ পর্যন্ত পারেননি কোহলি।

দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এতটাই জমেছে যে কালও বলার উপায় ছিল না, চার দিনেই শেষ হতে চলা সিরিজের প্রথম টেস্টে বিজয়ীর হাসি হাসবে কোন দল। যদিও তৃতীয় দিন শেষে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১১০ রান। জিততে হলে বিরাট কোহলির দলকে তখনো করতে হতো আরও ৮৪ রান। আর ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৫ উইকেট। লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভারতকে লড়তে হয়েছে ইংলিশ পেস আর ইতিহাসের বিপক্ষে। এজবাস্টনে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ১৯৪ বা এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের উদাহরণ আছে মাত্র দুটি। যার সর্বশেষটি আবার ১০ বছর আগের। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারত এর আগে ১৭৩ রানের বেশি তাড়া করে টেস্ট জেতেনি। তবে কোহলি উইকেটে ছিলেন বলেই বলার উপায় ছিল না, ইংলিশরা আদৌ ম্যাচটা জিততে পারবে কি না।

আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক সকালে দ্রুত ফিরে গেলেও কোহলি আরেকটি জুটি গড়েন হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে। দুজনের ২৯ রানের সপ্তম উইকেট জুটি ভেঙেছে কোহলি আউট হয়ে যাওয়ায়। বেন স্টোকসকে ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন। টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় বল লাগে পায়ে। আম্পায়ার আলিম দার এলবিডব্লু দিলে রিভিউ নেন কোহলি। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ৫১ রানে আউট হয়ে কোহলি যখন ফেরেন তখনো ভারতের দরকার ৫৩ রান। ৪টা চারে ১৮৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৫১ রান তো নয়, যেন বিরুদ্ধে স্রোতে শত মাইল সাঁতরে যাওয়া। সেই সাঁতার শেষ পর্যন্ত তীর খুঁজে না পেলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় ঠিকই জিতেছে। প্রধান সেনাপতিকে হারানোর পর ভারতের কাছে ভীষণ কঠিন কাজ হয় লক্ষ্যে পৌঁছাতে। পরের ২১ রানের মধ্যে বাকি দুই সতীর্থ ফিরে গেলে কোহলির লড়াকু ইনিংসটা বৃথা গেছে, তবে সব শংসা বরাদ্দ ভারতীয় অধিনায়কের জন্য।

এজবাস্টন টেস্টকে ইংল্যান্ডের ১০০০তম টেস্ট হিসেবেই মনে রাখতে হতো। কিন্তু শুধু একটিমাত্র সংখ্যার জন্যই এই টেস্টটাকে মনে রাখতে হচ্ছে না। এজবাস্টন উপহার দিয়েছে অসাধারণ এক ক্রিকেট লড়াই। উত্থান-পতনে ভরা দারুণ ক্রিকেট দেখা গেছে বার্মিংহামে। আর সেই জমজমাট লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রইলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক বললেন, ‘এটা ছিল দুর্দান্ত এক টেস্ট। এমন রোমাঞ্চকর টেস্টের অংশ হতে পেরে খুশি।

অনেকবার আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। নিজেদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। তবে ইংল্যান্ড ছিল নাছোড়। রানের জন্য আমাদের কষ্টটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে লড়াইটা করেছি তাতে গর্ব বোধ করছি। দলের সবাইকে বলব এটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে। বড় সিরিজে এমন শুরু, আমরা গর্বিত হতেই পারি।’

নি এম/