eibela24.com
শুক্রবার, ২১, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ভবদহে আসছে সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্প
আপডেট: ০২:৪৩ pm ০৭-০৮-২০১৮
 
 


অবশেষে ভবদহে টিআরঅএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্পের জট খুলেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে টিআরএম প্রকল্প চালুসহ ভবদহের সার্বিক উন্নয়নে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে একটি প্রকল্প আসছে। বিষয়টি যশোর পাউবো’র নির্বাহী প্রকোশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী নিশ্চিত করেছেন। 

টিআরএম চালুসহ ভবদহ সংলগ্ন নদী ও ছোটবড় খাল খনন ও ভেঁড়ি বাঁধ কেটে টিআরএম চালুকরণে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর ও খুলনা জেলার বিল কপালিয়া, বিল ভায়না, বিল খুকশিয়া, বিল বোকড়সহ ২৭ বিলের পানি নিস্কাশনের একমাত্র প্রবাহ পথ ভবদহ স্লুইচ গেট। ভবদহ স্লইচ গেটের বিপরীত পাশে পলিতে ভরাট হওয়ায় ধীর গতিতে বইছে নদী। শ্রী নদী ও ছোট বড় খালগুলো দিয়ে জোয়ারের পানিতে আসা পলিতে ভরাট হচ্ছে ভবদহ সুইচ গেট। এরফলে ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছে ভবদহ পাড়ের লাখো ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

শুক্রবার সরেজমিন ভবদহ এলাকায় গেলে ভবদহ পাঁড়ের গ্রামবাসীর চোখে মুখে অজানা আতংকের চিত্র চোখে পড়ে। তবে, টিআরএম প্রকল্প চালুর সংবাদ পেলেও যতদিন না এর বাস্তবায়ন হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত ভবদহের অভিশাপের যাতাকলে নিষ্পেষিত এ পোড় খাওয়া মানুষগুলো কিছুতেই যেন আশ্বস্ত হতে পারছে না।

এদিকে, ভবদহের ৩নং ভেন্টের স্লুইচ গেটের সামনের অংশে (নদী সংলগ্ন) পলি ভরাট হওয়ায় স্কেভেটর মেশিন দিয়ে পলি অপসারণ করা হচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবদহ সুইচ গেট সংলগ্ন নদী ও খালে জোয়ারের পানির সাথে ঢুকছে প্রচুর পরিমানে পলি। কিন্তু ভবদহের অপর অংশ ( বিল সংলগ্ন) উঁচু হওয়ায় জোয়ারের পানি ঢুকতে না পারলেও পলিতে ভরাট হচ্ছে গেটের সামনের অংশ। এভাবে পলিতে ভরাট হওয়ায় স্কেভেটর মেশিন দিয়ে তা অপসারণ করা হচ্ছে। 
স্থানীয় ভূক্তভোগীরা এটিকে ‘চুল ছাটার’ সাথে তুলনা করছে। এসময় কালিশাকুল গ্রামের মৎস্যজীবী পরিতোষ বিশ্বাস ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, মানুষের মাথার চুল বড় হলে যেভাবে ছাঁটা হয়, সেভাবে গেটের সামনে থেকে পলি অপসারণ করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে কতদিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বিল কপালিয়ায় পরিকল্পিত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। একই মন্তব্য করেন স্থানীয় কাটেঙ্গা গ্রামের ফজর আলী।

কথা হয় ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রনজিৎ বায়ালীর সাথে। তিনি শংকার কথা জানিয়ে বলেন, এ এলাকায় এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, অচিরেই কার্যকরি ব্যবস্থা না নেয়া হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ভবদহের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে এ এলাকায় চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছেন এ সংগ্রামী নেতা। 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ বছরে মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরের জাতীয় সংসদ সদস্যরা ভবদহ সংকট নিরসনকল্পে মহান জাতীয় সংসদে একবারও কথা বলেননি। তারা সংকট উত্তরণে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী, পাউবো’র (পানি উন্নয়ন বোর্ড) নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। 

তিনি দাবি করেন, ভবদহ সংলগ্ন বিলের ভেঁড়িবাঁধ কেটে দিয়ে জোয়ারাধার সৃষ্টি করা হলে নদীগুলো নাব্যতা ফিরে পাবে। তিনি বিল খুকশিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৫ সালে ওই বিলে টিআরএম চালু করা হয়। বর্তমানে ওই বিলে ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা। প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে টিআরএম চালুসহ ভবদহের সার্বিক উন্নয়নে নেয়া প্রকল্প অনুমোদনের কথা তিনিও শুনেছেন। তবে, তিনিও অন্যদের মত তার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান আছেন।
সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভবদহ পাড়ের লাখো জনতাকে বাঁচাতে এখনি বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু করতে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান তিনি।

যশোর পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ইতোমধ্যে টিআরএম চালুসহ ভবদহ এলাকায় সার্বিক উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আপতত বন্যার হাত থেকে রক্ষায় পানি নিস্কাশনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাজেট দিয়ে গেটের সামনের ও পিছনের পলি অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলে, গত ৮ দিনে যশোরে ২৪৮ মিলিমিটিার পানি হয়েছে বলে রেকর্ড করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে ভবদহ স্লুইচ গেটে পৌছেছে বলে।

নি এম/