eibela24.com
রবিবার, ১৮, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
এশিয়ান গেমসে স্বপ্নার সাফল্যে খুশি মোদি-মমতা
আপডেট: ০২:১৫ pm ০৩-০৯-২০১৮
 
 


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার পাতাকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার এক মেয়ের নাম স্বপ্না বর্মণ। কতজনই–বা জানতেন তাঁর নাম। সেই স্বপ্নার খ্যাতি এখন দেশজুড়ে। তিনি এবারের এশিয়ান গেমসের হেপ্টাথলনে পেয়েছেন সোনার পদক।

হেপ্টাথলনের সাতটি খেলার মধ্যে স্বপ্না শীর্ষে ছিলেন উচ্চলাফ ও জ্যাভলিনে। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন শটপাটে ও লংজাম্পে। চতুর্থ ছিলেন ৮০০ মিটার দৌড়ে, পঞ্চম ছিলেন ১০০ মিটার হার্ডলস এবং সপ্তম ছিলেন ২০০ মিটার দৌড়ে। সব মিলিয়ে স্বপ্নার সংগ্রহ ছিল ৬ হাজার ২৬ পয়েন্ট। আর তাতেই শীর্ষস্থান দখল করে হেপ্টাথলনে সোনার পদক পান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার এক গ্রামীণ মেয়ে স্বপ্না। তাঁর ভ্যানচালক বাবা অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। রাজমিস্ত্রি ভাইয়ের আয়ে কোনো রকমে সংসার চলত স্বপ্নার। তবু স্বপ্না ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন, বড় হয়ে ক্রীড়াবিদ হবেন। সেই লক্ষ্যে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। সেই স্বপ্নার এবার স্বপ্ন পূরণ হলো এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনার পদক পেয়ে।

এশিয়ান গেমসে এক বাঙালি মেয়ের সোনার পদক পাওয়ার ঘটনায় গোটা পশ্চিমবঙ্গে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খবরে অভিনন্দন জানান স্বপ্নাকে। পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছা বার্তাসহ মিষ্টি। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বপ্নাকে এই কৃতিত্বের জন্য ১০ লাখ রুপি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মমতা। এখানেই শেষ নয়, স্বপ্নাকে দেওয়া হবে সরকারি চাকরি ও সরকারি আবাসন। এই খবরে স্বপ্নার বাবা-মা দারুণ খুশি।

এ দিকে স্বপ্নার এই সাফল্যে ভারত সরকারও খুশি। ভারত এবার এই এশিয়ান গেমসে ১৫টি সোনাসহ ৬৯টি পদক পেয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। এই তালিকারই একজন স্বপ্না। তাই স্বপ্নাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রীও।

ভারতের আরেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া (সাংসদ দার্জিলিং) শনিবার ছুটে যান স্বপ্নার জলপাইগুড়ির গ্রামের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা। জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নার এই সাফল্যে ৩০ লাখ রুপি দেওয়ার কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে একটি চাকরিও। আলুওয়ালিয়া এই বার্তা দেন স্বপ্নার বাবা পঞ্চানন বর্মণ ও মা বাসনা বর্মণকে। শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কৃতী সন্তান স্বপ্নার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় মিষ্টি, উত্তরীয় ও শাল। স্বপ্নার মায়ের সঙ্গে কথা হয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর।

৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়া দপ্তর স্বপ্নার সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর স্বপ্নার সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বপ্নার পছন্দের যে কোনো চাকরি দেওয়ার কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে স্বপ্না কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে ছিলেন। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনকি অলিম্পিকে যোগদানের সার্বিক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

নি এম/