eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ২০, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আজ মহানায়ক উত্তম কুমারের ৯২তম জন্মদিন
আপডেট: ০৫:৫৯ pm ০৩-০৯-২০১৮
 
 


ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা উত্তম কুমার। বাঙালিদের চলচ্চিত্রে নিখাদ বিনোদন দিতে যিনি ছিলেন আনবদ্য। তিনি একাধারে অভিনেতা, চিত্রপ্রযোজক ও পরিচালক। চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি মঞ্চেও ছিলেন সরব। বাঙলা চলচ্চিত্র জগতে তাকে ‘মহানায়ক’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। আজ মহানায়কের ৯২তম জন্মদিন। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। উত্তম কুমারের প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চ্যাটার্জী। সিনেমায় এসে তার নাম পরিবর্তিত হয়ে উত্তম কুমার হয়। উত্তম কুমার কলকাতার সাউথ সাবারবান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েন্কা কলেজে ভর্তি হন। 

কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি। সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে এসে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল দৃষ্টিদান। এই ছবির পরিচালক ছিলেন নিতীন বসু। এর আগে উত্তম কুমার মায়াডোর নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন কিন্তু সেটি মুক্তিলাভ করেনি। বসু পরিবার চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এরপর সাড়ে চুয়াত্তর মুক্তি পাবার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন। সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন। এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূত্রপাত হয়। উত্তমকুমার এবং সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অনেকগুলি ব্যবসাসফল এবং প্রশংসিত চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এগুলির মধ্যে প্রধান চলচ্চিত্রগুলো হল, হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা এবং সাগরিকা। উত্তম কুমার বহু সফল বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। তাঁর অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত, অমানুষ এবং আনন্দ আশ্রম অন্যতম। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। সঙ্গীতের প্রতিও ছিল তার অসীম ভালবাসা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কিংবা মান্না দে'র গানেই সবচেয়ে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন উত্তম। ছবির গান রেকর্ডিংয়ের সময় শিল্পীর পাশে বসে তার অনুভূতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করতেন। এতে করে না কি পর্দায় ঠোঁট মেলাতে তার বেশ সহজ হতো। 
   
তাঁর ভুবনমোহিনী হাসিতে নিজের মন হারাননি এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া ভার৷ মৃত্যুর প্রায় ৮৭ বছর পরেও একই রকম রয়ে গিয়েছে তাঁর ক্যারিশমা৷ রোমান্টিক নায়ক বলতে আজও প্রথমেই মনে আসে তাঁর নাম৷ শুধু বাংলা সিনেমাতেই নয়, সর্বভারতীয় সিনেমাতেই তাঁর আকর্ষণ একইরকম৷

শো-ম্যান রাজকাপুরও একদা তাঁর সম্বন্ধে বলেছিলেন, ‘ভারতীয় সিনেমার স্মার্ট, আধুনিক নায়ক বলতে উত্তমের নামই মনে আসছে৷’ বর্তমানের বার্গার-পিৎজা প্রিয় প্রজন্মের কাছেও ফুরোয়নি তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলির আর্কষণ৷

সুচিত্রা ছাড়াও তনুজা, সুপ্রিয়া, মাধবী, শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গেও উত্তমকুমারের জুটি ছিল জনপ্রিয় ৷ সারা জীবনে মোট ২১১টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি৷ তাঁর মধ্যে ১৫টি ছিল হিন্দি সিনেমা৷

নি এম/