eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য
আপডেট: ০৫:৩০ pm ০৯-০৯-২০১৮
 
 


কৌশিকী অমাবস্যায় সেজে উঠেছে তারাপীঠ৷ দু’দিন ধরে মন্দির চত্বরে লোকে লোকারণ্য৷ তিথি মেনে শনিবার রাত ১ টা ৫২ মিনিট থেকে শুরু হয় তারা মায়ের আরাধনা৷ রবিবার রাত ১১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলবে পুজোপাঠ৷ কৌশিকী অমাবস্যার পুজো শেষে মাকে নিবেদন করা হয় বিশেষ ভোগ৷ মায়ের ভোগে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, তরকারি, ভাজা, মাছের কয়েক রকমের পদ, বলির মাংস, পায়েস ও মিষ্টি৷ রীতি মেনে কৌশিকী অমাবস্যার ভোগে সুরাও দেওয়া হয়৷ 
   
পুরাণে কথিত রয়েছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন স্বর্গের দেবতারা। শেষে দেবতারা মহামায়ার তপস্যা শুরু করেন। সেই তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী কালী শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো কোশিকা পরিত্যাগ করেন৷ কালো কোশিকা পরিত্যাগের জেরে পূর্ণিমার চাঁদের মতো গায়ের রং হয়ে যায় দেবী কালীর। রং বদলে তিনি হয়ে উঠলেন অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণা দেবী কৌশিকী। কৌশিকী রূপে মহামায়া এই বিশেষ তিথিতেই ‘শুম্ভ’ ও ‘নিশুম্ভ’ নামের দুই অসুরকে বধ করেন। সেই রীতি অনুযায়ী আজও কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তারাপীঠে মা তারাকে ‘কৌশিকী’ রূপে পুজা করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে তারাপীঠে৷ যত রাত বেড়েছে, ততই বেড়েছে ভক্ত সমাগমও৷ শুধু এ রাজ্যই নয়,  কৌশিকী অমাবস্যার পুজা দেখতে বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও তারাপীঠে এসেছেন অনেকেই ৷ দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মায়ের চরণে পুজোও দেন তাঁরা৷ অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভক্তদের ভিড় সামলাতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার মন্দির চত্বরে৷ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ড্রোনের মাধ্যমেই মন্দির চত্বরে নজরদারি চালানো হয়৷ মন্দির ও শ্মশান চত্বরে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশকর্মী ও সিভিক ভল্যান্টিয়ার৷ রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ৷

নি এম/