eibela24.com
বুধবার, ১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ কি?
আপডেট: ১০:২৮ am ১১-০৯-২০১৮
 
 


গর্ভধারণের সঠিক স্থান হচ্ছে জরায়ু। নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হওয়াটাই নিয়ম। তারপর জরায়ুর নিরাপদ আশ্রয়ে অমরা বা ফুলের মাধ্যমে পুষ্টি পেয়ে সেই নিষিক্ত ডিম্বাণু ভ্রূণ থেকে ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হয়ে ওঠে। কিন্তু এই নিয়মের ব্যতিক্রমও ঘটে। জরায়ুর বাইরে কোনো জায়গায় ভ্রূণ প্রতিস্থাপিত হওয়ার বিপদের নাম একটোপিক প্রেগনেন্সি। ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ভ্রূণ যেকোনো ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালিতে ঘটে বলে এর আরেক নাম টিউবাল প্রেগনেন্সি। তবে এটি জরুরি ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি। কেননা, যেকোনো মুহূর্তে টিউবটি ফেটে গিয়ে রোগীর জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়।

কারা ঝুঁকিতে আছেন?
■ যাঁদের তলপেটে সংক্রমণ বা পেলভিক ইনফ্লামাটেরি ডিজিজ আছে
■ যাঁদের গর্ভপাত বা টিউব প্রেগনেন্সির ইতিহাস আছে
■ জন্মগত টিউবের ত্রুটি থাকলে বা আগে টিউবে কোনো অস্ত্রোপচার করা হলে
■ দীর্ঘদিন বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা
■ IVF এর মাধ্যমে বাচ্চা নিতে গেলে

কীভাবে বুঝবেন?

মাসিকের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, রক্তপাত ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে অবশ্যই একটোপিক প্রেগনেন্সির কথা মাথায় রাখা উচিত। স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার তুলনায় একটোপিক প্রেগনেন্সিতে রক্তে বিটা এইচসিজির মাত্রা কম থাকে। আলট্রাসনোগ্রামে জরায়ুর বাইরে জেসটেশনাল স্যাক বা গর্ভাধান পাওয়া যায়।

এ ধরনের গর্ভাবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো টিউব ফেটে যাওয়া। প্রেগনেন্সি স্যাক ফেটে গিয়ে পেটের ভিতর রক্তপাত। এতে দ্রুত রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। তাই মৃত্যু ঝুঁকিও অনেক বেশী। দ্রুত অস্ত্রোপচার করে টিউবসহ ভ্রূণটি কেটে বাদ দিতে হয়। তবে ফেটে যাওয়ার আগেই ধরা পড়লে নানা ধরনের ইনজেকশন দিয়ে বা প্রয়োজনে ল্যাপারোস্কপি করে ভ্রূণ বের করে এনে চিকিৎসা করা হয়। একটোপিক প্রেগনেন্সি মাতৃমৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ। যত দ্রুত এ সমস্যা শনাক্ত করা যায়, তত রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। তাই এ ধরনের সমস্যার বিষয়ে প্রত্যেক নারীর সচেতন থাকা উচিত।

করণীয়:

বিবাহিত মহিলা যাদের অনিয়মিত মাসিক হয়, দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করছেন বা উপরে উল্লেখিত একটোপিক প্রেগনেন্সির কোনো কারণ বিদ্যামান আছে তাদের হঠাৎ তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করা মাত্রই তলপেটের আলট্রাসনোগ্রামের পাশাপাশি প্রেগনেন্সি টেষ্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করা উচিত।

অন্যভাবে বলা যায় যে কোনো বিবাহিত মহিলার প্রেগনেন্সি টেষ্ট পজিটিভ পাওয়ার পর বাচ্চা জরায়ুর ভিতরে নাকি বাইরে আছে তা বুঝার জন্য প্রথম দু’মাসের মধ্যে একটা Pregnancy Profile করতে হবে। কেননা ডায়াগনোসিসে নিশ্চিত প্রমাণ মিললে Ectopic Pregnancy Sac Rupture হওয়ার আগেই অপারেশন না করে শুধু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেও চিকিৎসা করে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।

প্রথমবার  পিরিয়ড মিস হওয়ার পরে  ইউরিনে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে দেখতে হবে। যদি প্রেগনেন্সি এসে থাকে তাহলে আলট্রাসনোগ্রাফি করে ভ্রুণের অবস্থা দেখে নিতে হবে। একটোপিক প্রেগনেন্সি বোঝার সব থেকে ভালো উপায় হল লোয়ার আবডোমেনের আলট্রা সোনগ্রাফি। সাধরণ প্রেগনেন্সিতে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা দুদিনে দ্বিগুণ হয়। কিন্তু একটোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে বেশি সময় নেয়। ফলে রক্ত পরীক্ষায় এই হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় না বাড়লে অতি অবশ্যই সোনগ্রাফি করাতে হবে।

রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে, ঠিক কতদিন পর্যন্ত চিকিৎসা না করালেও চলবে তা বলা যায়না। রোগটির বিভিন্ন ধরণ ও মাত্রা রয়েছে, সে অনুযায়ী যে কোনো মুহুর্তেই মারাত্মক বিপত্তি ঘটে যেতে পারে।

ক্টোপিক প্রেগন্যান্সির পর গর্ভধারণ করা যায়?

বেশিরভাগ মহিলা যাদের এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি ধড়া পড়ে , তারা পরবর্তীকালে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন। আপনার ফেলোপিয়ান টিউব যদি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে সেক্ষেত্রে ভবিষত্যে আপনি মা হতে পারবেন। যদি যৌন সংক্রমনের জন্য এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হয়, সেক্ষেত্রেও পরবর্তীকালে আপনার প্রেগনেন্সির সব্ভাবনা বাড়বে । একটোপিক প্রেগন্যান্সির ঠিক কত সময় পর আপনি আবার মা হতে চান তা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে জেনে নিন। এক্ষেত্রে অনেক চিকিৎসক ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন একবার এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হলে পরবর্তীতেও তা হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই গর্ভধারণ এর শুরুতেই পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।

নি এম/