eibela24.com
সোমবার, ২৪, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
শুভ জন্মদিন কালিকাপ্রসাদ
আপডেট: ০৬:০৩ pm ১১-০৯-২০১৮
 
 


কিছু কিছু মৃত্যু জন্মেরও চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। জন্মদিনের কথা মনে এলেও মরণের দিনই ভেসে ওঠে মাথায়। আসলে এই সমস্ত মৃত্যু চিরকালই অকাল। কিছু মানুষের জন্য অপেক্ষা তাই অনন্ত। যেমন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। আজ তাঁর জন্মদিনেও বারেবারে এক বছর আগের তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়ার মুহূর্তই এখন সবার আগে মনে আসছে সঙ্গীতপ্রেমী বাঙালির। ১৯৭০ সালে আসামের শিলচরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি বাংলার লোকসঙ্গীতের ক্ষেত্রে আধুনিক সময়ের অনিবার্য নাম হয়ে উঠেছিলেন। উত্তর পূর্বের রাজ্যে জন্ম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তর বাংলার লোকগান আর উত্তর পূর্ব ভারতের লোকগান ছিল তাঁর মূল পছন্দের বিষয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে ১৯৯৯ সালে তৈরি করেন লোকগানের দল দোহার । শিকড়ের গান বলে যদি কিছু হয় তা এই লোকগানই। অথচ প্রচারের অভাবে এখনও বহু সমৃদ্ধ লোকগান বাংলা সঙ্গীত জগতের উঠোনে এসে পৌঁছাতে পারেনি। কালিকা ও তাঁর দোহার চেয়েছিলেন সমৃদ্ধ এই সমস্ত লোকগান নতুন করে পৌঁছে যাক মানুষের কাছে। শুধু লোকগানই নয়। রবীন্দ্রগানে লোকগানের ব্যবহার নিয়েও গবেষণামূলক কাজ রয়েছে তাঁর। লালন সাঁই ও রবিঠাকুরের গান দেশে ও বিদেশে নতুনভাবে পথ চিনেছে তাঁর হাত ধরেই। এবং সেই পথ দিয়েই বাংলা সিনেমাতে লোকগানের ব্যবহারের নতুন জানলা আবিষ্কারেও কালিকাপ্রসাদের ভূমিকা অনন্য।

পরিচালক অশোক বিশ্বনাথনের হিন্দি সিনেমা ‘গুমশুদা’তে গান গেয়েই সিনেমায় লোকগানের যাত্রা শুরু কালিকাপ্রসাদের। এরপর ২০০৭ সালে সুমন মুখোপাধ্যায়ের চতুরঙ্গ সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি। তবে তার ঠিক পরের বছর পরিচালক গৌতম ঘোষের সিনেমা ‘মনের মানুষ’এ তাঁর গান আরও বেশি করে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। কৌশিক গাঙ্গুলির সিনেমা বিসর্জন, ফাকরুল আহমেদের ‘ভুবন মাঝি’ সিনেমাতে সঙ্গীত পরিচালনার কাজও করেছেন কালিকাপ্রসাদ। ভুবন মাঝিই তাঁর শেষ কাজ।

২০১৭ সালে ৭ মার্চ হুগলীর গুড়াপের কাছে অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে আকস্মিক পথ দূর্ঘটনায় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় কালিকার। 

নি এম/