eibela24.com
শনিবার, ১৭, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মহামতি ভীষ্ম ৫৪ দিন কেন শরশয্যায় ছিলেন?
আপডেট: ০৬:১৬ pm ১১-০৯-২০১৮
 
 


আমারা সবাই জানি যে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মহামতি ভীষ্ম ৫৪ দিন শরশয্যায় মারাত্মকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু কেন মহামতি ভীষ্ম ৫৪ দিন ধরে তীরবিদ্ধ ছিলেন? কারন এটা ছিল ওঁনার কর্মফল। কেননা, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্ম, অর্জুনের বানে ভূমিতে ধরাশায়ী হয়ে প্রচন্ড বেদনায় ছটফট করছিলেন। একে একে সবাই উনাকে দেখতে আসছিলেন। একদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণও উনাকে দেখতে এলে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দেখে ভীষ্ম বললেন, " হে জনার্দন , আমি পূর্ব জন্মেএমন কি পাপ করেছিলাম যে এই জন্মে এত বড় শাস্তি এত কষ্ট আমাকে ভোগ করতে হচ্ছে?"

ভগবান বললেন, " আপনি তো নিজেই পূর্ব জন্মের কথা স্মরন করতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেই দেখুন না আপনি পূর্ব জন্মে কি পাপ করেছিলেন? "
ভীষ্ম বললেন, " আমি তো দেখতে দেখতে গত ১০০ জনমের কর্ম দেখে ফেলেছি, কিন্তু এই ১০০ জনমের মধ্যে আমি এমন কোনো কর্ম করিনি যেটাতে আমি এত বড় শাস্তি পেতে পারি। "

ভগবান বললেন, " আপনি কৃপা করে এই ১০০ জনমের ঠিক একটি জনম আগে দেখুন (অর্থাৎ ১০১ নং জনম), উওর আপনি পেয়ে যাবেন। "

তখন পিতামহ ভীষ্ম চোখ বন্ধ করে ধ্যান পূর্বক দেখতে লাগলেন - ঐ জনমে তিনি একজন খুবই ধার্মিক রাজা ছিলেন। একদিন তিনি বিশাল সৈন্যদল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথের মাঝে একটি সাপ এসে তাদের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এক সৈনিক এসে বললো, " মহারাজ , একটি সাপ রাস্তার মাঝে বসে আছে, কি করবো? "

রাজা বললেন, " তুমি সাপটিকে একটি লাকড়িতে বেঁধে পাশের জঙ্গলে ফেলে দাও।"
সৈনিক তাই করলো, কিন্তু সাপটি জঙ্গলে একটি বিশাল কাঁটার ঝোপের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রচন্ড যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে অবশেষে পাঁচদিন পর মারা গেল।

পিতামহ ভীষ্ম তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বললেন, " দেখলাম আমার পাপ কর্ম, কিন্তু আমিতো সাপটিকে বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিলাম, নাহলে তো সাপটি আমার রথের চাকার নীচে চাপা পরেই মারা যেতো।"

ভগবান বললেন, " কিন্তু আপনিতো ঐ সাপটির কি পরিনতি হলো তা একবারও ফিরে দেখলেন না বা ঐ সাপটিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেন নি, তাই আজ আপনার এই পরিনাম। অথচ আপনার পুন্য কর্ম এত বেশী ছিল যে গত ১০০ জনমেও আপনি কোন পাপের ফল ভোগ করেন নি ।"

এ থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ জেনেই হোক বা না জেনেই হোক সে যে কর্ম করছে তার ফল ভোগ অবশ্যই করতে হবে। কেউ এই জনমে বা কেউ পরের জনমে ভোগ করছে । কুকুর , ছাগল , বাঘ ইত্যাদি জন্তু জানোয়ারেরা পূর্ব জন্মে এই ধরনের নীচ কর্ম জেনে শুনে করেছে বলেই তারা এই রুপে অনেক যাতনার শিকার হচ্ছে। 
তাই সাবধানেই প্রত্যেকটি কর্ম করা উচিত। ভগবানের নাম স্মরন করে সর্ব কর্ম উনাতে অর্পন পূর্বকই করা উচিত।তাকে বলে নিষ্কাম কর্ম। তার শ্রী গীতা মতে নিষ্কাম কর্মীকে কোনো দিন পাপ বা পূর্ণ ভোগ করতে হয় না তিনি মৃত্যুর পর ভগবানে লীন হয়ে যান অর্থাৎ মোক্ষ লাভ করেন।

নি এম/