eibela24.com
সোমবার, ১৭, জুন, ২০১৯
 

 
সংস্কারের নামে বালি উত্তোলন
সৈয়দপুরে পুকুর গর্ভে বিলীনের পথে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর
আপডেট: ০৩:১৭ pm ৩১-১০-২০১৫
 
 


 সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের একটি পুকুর সংস্কারের নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ড্রেজার দিয়ে লাখ-লাখ টাকার বালি উত্তোলন করায় সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিলিন হতে চলেছে।

ড্রেজিংয়ের বিশাল গভীরতায় নলকুপ ময়লাযুক্ত পানি ওঠায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া পানি নিস্কাশনের ড্রেন বন্ধ করায় চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এ অবস্থায় ঘরবাড়ি বাঁচাতে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থ স্বাভাবিক করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 

জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ের কারখানা শ্রমিকদের বসবাসের সুবিধার্থে তৎকালিন ইংরেজ সরকার আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্মাণ করা হয় বিভিন্ন মহল্লায় কোয়ার্টার। এ সকল কোয়াটারে বসবাসকারীদের পানি নিস্কাশন ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থায় প্রতিটি মহল্লায় পুকুর খনন করেন। ফলে পুকুরগুলো পানি নিস্কাশনসহ আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। অনেক পুকুর এখনওা ইংরেজদের সেই সাক্ষ্য বহন করলেও সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার জোড়াপুকুর দুটির একটি গত বছর ভরাট করে বানানো হয় ঈদগাহ মাঠ।

অপরটিকে সংস্কারের নামে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা মেশিন বসিয়ে ড্রেজিং করে ৪শ’ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫০ ফুট প্রশস্থ ৩০ ফুট গভীর পুকুরটিকে আরো ৩০ ফুট গভীর করে।

এতে পুকুর পাড়ে বসবাসকারী প্রায় ৫শ’ বাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে মুরাদ ও নেহাল নামের দুই ব্যক্তির বাড়ি এ পুকুরের অভ্যন্তরে ধসে গেছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা এ সকল বাড়ির পানি নিস্কাশনের ড্রেনগুলো বন্ধ করে দেয়ায় বাড়ির ভিতরে পানি জমায় চরম কষ্টে পড়েছে এলাকাবাসী।

ওই এলাকার হায়দার খান, জাহাঙ্গীর খান, রইজ জানান, বাড়ি ধ্বসে পড়ার আতংকতো আছেই। এর ওপর টিউবওয়েলের পানি দিয়ে ময়লা আসছে।

এ অবস্থায় আমরা অন্য বাড়ির পানি এনে প্রয়োজনীয় কাজ চালাচ্ছি। রানী নামে এক গৃহবধু জানান, এ টিউবওয়েলের পানি পান করে আমার বাড়িতে প্রায়ই ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও টাইফয়েড রোগের প্রার্দুরভাব দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসা নেয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শে অন্য এলাকার পানি এনে খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করায় এ সমস্যা কেটে গেছে। তবে পানি সংগ্রহের হয়রানি বেড়েছে।

এ নিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর আহমেদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটি ইএন অফিস পাকশিীর অধীনে।

তাই এ নিয়ে কিছু বলতে অপারোগতা প্রকাশ করেন রেলওয়ের এ কর্মকর্তা।

তবে সৈয়দপুর পৌরসভার পানি নিস্কাশনের বড় ড্রেনটি বন্ধের বিষয়ে অবগত নন পৌর পরিষদ।

তাই এধরনের ঘঁটনা ঘটলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জিয়া।

এইবেলা ডট কম/মোমেন/পিসি