eibela24.com
বুধবার, ০২, ডিসেম্বর, ২০২০
 

 
চীনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উইঘুর কয়েক হাজার মসজিদ
আপডেট: ১০:২৪ pm ২৬-০৯-২০২০
 
 


উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং চাপের মধ্যেও চীন শিনচিয়াং প্রদেশে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে আরও প্রায় ৪শ বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার মসজিদ।

শিনচিয়াংয়ে বিপুল সংখ্যক নতুন বন্দিশিবিরের সন্ধান পাওয়ার কথা বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট’ (এএসপিআই) বলছে, শিনজিয়াংয়ে আনুমানিক ৩৮০ টি বন্দিশিবির আছে। যা আগের ধারণার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।

বিবিসি জানায়, আগের তদন্তে বন্দিশিবিরের যে আনুমানিক হিসাব করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরও ১শ’টি বেশি বন্দিশিবির পাওয়ার কথা বলা হয়েছে এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে। স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই শিবিরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৬১ টি বন্দিশিবির বাড়ানো হয়েছে। আরও ১৪ টি শিবিরের নির্মাণকাজ এখনও চলছে।

চীন এই বন্দিশিবিরগুলোকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলে দাবি করে আসছে। তাদের ভাষ্য, শিনচিয়াংয়ে দারিদ্র্য এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবেলায় এইসব কেন্দ্রে মূলত জাতীয়তাবাদ ও আদর্শের দীক্ষা দেওয়া এবং চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এই কেন্দ্রগুলোকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গেই তুলনা করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও বলছে, অন্তত ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কিভাষী-মুসলিম অধিবাসীদের এই সমস্ত আটককেন্দ্রে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

উইঘুরদের কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংস: এদিকে শিনচিয়াং প্রদেশে কয়েক হাজার মসজিদ ধ্বংস করেছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মুসলিমদের কবরস্থান, মাজারও ধ্বংস করা হচ্ছে। গত তিন বছরে ওই প্রদেশের এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার কাজ আরও বাড়িয়েছে চীন। মসজিদ, মাজার ও কবস্থানের বেশিরভাগই এ সময়েই ধ্বংস করা হয়। অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট(এএসপিআই)- এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিনচিয়াং প্রদেশটি সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত। চীনের বিরুদ্ধে ওই প্রদেশে মুসলিমদের উপর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ নিয়মিত উঠে আসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। চীন সরকারের হিসেব অনুযায়ী শিনচিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের ২৪ হাজার মসজিদ রয়েছে। 

থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান এএসপিআই জানিয়েছে, ২০১৭ সালের পর ৩০ শতাংশ মসজিদ ধ্বংস ও আরও ৩০ শতাংশ ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ উইঘুর ও তুর্কিভাষী মুসলিমকে রাখা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।

এএসপিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনচিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকি ও কাশগর শহরের আশেপাশে ধ্বংসযজ্ঞ বেশি চালানো হয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের ১৬ হাজার মসজিদ বা ধর্মীয় পবিত্র স্থাপনা ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে আট হাজারের বেশি মসজিদ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে এএসপিআই।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিনচিয়াং প্রদেশে বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি— চীনের এ অঞ্চলে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়। মুসলিম শ্রমিকদের কৃষিকাজে বাধ্য করে উৎপাদন করা হয় কৃষিপণ্য। ফলে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূএ: বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

নি এম/