eibela24.com
বৃহস্পতিবার, ১৫, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার ১২ উপায়
আপডেট: ০৫:২১ pm ১৪-১১-২০১৬
 
 


লাইফস্টাইল ডেস্ক : মা হতে যাচ্ছেন এমন প্রতিটি নারীর জন্যই স্বাস্থ্যকর গর্ভধারণের বিষয়টি সবার আগে বিবেচ্য বিষয়।

এদের মধ্যে যারা গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।গর্ভধারণের আগেই যে নারীরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরই এই ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এর ফলে গর্ভপাত এবং সন্তানের জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত হওয়ার মতো সম্ভাবনাও আছে।গর্ভাবস্থা সামনে এগিয়ে যেতে থাকলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ে।

এছাড়া আরো নানা সমস্যা দেখা দেয়।আর গর্ভবতী নারীদের ৯.২ শতাংশই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।তবে সুসংবাদটি হলো, পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যকর কৌশল এবং সমর্থনের মাধ্যমে আপনি আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং একটি স্বাস্থ্যবান শিশুর জন্ম দিতে পারবেন।

এজন্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:

১. গর্ভধারনের আগেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
আপনার যদি ডায়াবেটিস হয়ে থাকে এবং আপনি গর্ভধারনের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আপনার উচিৎ আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা।যাতে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন আপনার এওয়ান সি-র মাত্রা স্বাভাবিক। আর জরুরি হলে ওষুধের ব্যাপারেও কথা বলুন। অথবা কোনো পুষ্টিবিদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ চান।যেসব নারীর টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস আছে তাদের উচিৎ কিডনির কার্যক্রম সম্পর্কে একটি পরীক্ষা করানোর জন্য আবেদন জানানো। এছাড়া একটি থাইরয়েড পরীক্ষা, একটি চক্ষু পরীক্ষাও করানো দরকার। কারণ অন্যান্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
২. ওজন কমান
স্বাস্থ্যকর গর্ভধারণ করার একটি উত্তম উপায় হলো স্বাভাবিক ওজনে গর্ভধারণ করা। আপনার গর্ভধারণ যদি অপরিকল্পিত হয় তাহলে হতাশ হবেন না। যেদিন থেকে বুঝতে পারবেন গর্ভধারণ করেছেন সেদিন থেকেই ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করুন।
প্রধানত উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্য এবং চর্বি এড়িয়ে চলুন।
৩. আরো সামনে যান
শরীর চর্চা আপনাকে খাদ্য হজমে বেশি সহায়তা করবে। এছাড়া ব্যায়াম রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভাবস্থায় ও সন্তান প্রসবের পরে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে। সিডিসি গর্ভবতী নারীদেরকে প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট করে খোলা বাতাসে ঘোরাঘুরি করতে বলেন।
৪. কার্বোহাইড্রেট গণনা করুন
আপনি যখন খাবার খাবেন তখন প্রতিটি খাবারে কী পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট আছে তা জানুন এবং যা খাবেন তার পরিমাণ সীমিত রাখুন। কারণ তা আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। আপনার যদি টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে থাকে তাহলে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনাকে কার্বোহাইড্রেটের ওপর ভিত্তি করে ইনসুলিন নিতে হবে।
৫. প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খান
শাক-সবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান। শাক-সবজি আপনাকে আঁশে পূর্ণ করবে এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করবে। শাক-সবজিতে ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম। সুতরাং এসব খাবার আপনার রক্তের সুগারের মাত্রাকেও প্রভাবিত করবে না। লেটুস, গাজর, শশা এবং ব্রোকোলি এর সবগুলোই এ ক্ষেত্রে ভালো পছন্দ।
৬. প্রাত:কালীন বিবমিষা মোকাবেলা করুন
দিনের বেলায় প্রতি ঘন্টায় দুই থেকে তিন ঘন্টা পরপর খাবার খান। আপনি যদি ইনসুলিন বা বাড়ি খান তাহলে সকালে বিছানা ছাড়ার আগে সামান্য পরিমাণ নোনতা মুখরোচক খান। আর খাদ্য নিচে রাখা নিশ্চিত করার জন্য ওষুধ খান।
গ্লুকোজ ট্যাবলেট, মধু বা জুসের মতো দ্রুত কার্যকর কার্বোহাইড্রেটের ক্ষুদ্র উৎস আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে যদি আপনার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিম্ন হয়। এরপর নাস্তা করুন যাতে ডিম বা সাধারণ গ্রিক দইয়ের মতো স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস রয়েছে।
৭. খাদ্য বিতৃষ্ণা মোকাবেলা করুন
শাক-সবজির কথা ভাবলে যদি আপনার পাকস্থলী মোচড় দেয় তাহলে তাজা সবুজ সবজি জুস চেষ্টা করে দেখুন। যা ফোলেট এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং সুগার গ্রহণের প্রতি আগ্রহ কমাবে। আর প্রচুর পরিমাণ ফলের সঙ্গে জুস এড়িয়ে চলুন কারণ এটি আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৮. পান করুন সাবধানে
গর্ভাবস্থায় দেহের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। জুস, সোডা, স্পোর্টস ড্রিঙ্ক এবং কফি ও চাতে মিষ্টি বাড়ানোর উপাদান এড়িয়ে চলুন।
৯. নিজেকে প্রশ্রয় দেবেন না
কুমড়া পাই বা হলিডে কুকি উপভোগ করা ভালো। কিন্তু রাতের খাবারের সঙ্গে কী পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করবেন তার পুরো পরিমাণটির হিসেব রাখুন। যদি ওষুধ খেয়ে আপনার এর ক্ষতিপূরণ করতে হয়। আপনি যদি রাতের খাবার চান তাহলে স্যান্ডউইচের পরিবর্তে বরং একটি সালাদ নিন। অথবা বড় টুকরার বদলে বরং একটি সিলভার পাই চেয়ে নিন।
১০. প্রযুক্তির ব্যবহার করুন
এমন কোনো অ্যাপস এর সন্ধান করুন যা আপনাকে রক্তে সুগার, খাদ্য বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ পরিমাপ করতে সহায়তা করবে। এছাড়া রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।
১১. যত্ন সহকারে চালিয়ে যান
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশ পরবর্তী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।
সতুরাং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং গর্ভ পরবর্তী সময়ে জীবন-যাত্রার ধরনে পরিবর্তনের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
১২. সহায়তা নিন
আপনার মধ্যে হয়তো ডায়াবেটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা থাকতে পারে। সুতরাং সনদধারী কোনো ডায়াবেটিস প্রশিক্ষকের কাছে সহায়তা চান।এবং একজন নিবন্ধিত পুষ্টিবিজ্ঞানীর কাছে যান যিনি আপনাকে বাস্তব সম্মত এবং সুস্বাদু খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করবে।

আর স্বাস্থ্যকর গর্ভধারন এবং স্বাস্থবান শিশু জন্মদানের জন্য যে একটি সুষম পরিকল্পনা দরকার তা বুঝাটা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ফক্স নিউজ

এইবেলাডটকম/এফএআর