eibela24.com
সোমবার, ১০, ডিসেম্বর, ২০১৮
 

 
ভিসির অপসারণ দাবি, অস্থির যবিপ্রবি
আপডেট: ১০:৫৫ pm ২৯-০৩-২০১৫
 
 


যশোর : মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রোববার ক্যাম্পাসে ফের মিছিল-সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের বাধার মুখে এদিন অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। মিছিল থেকে উপাচার্যের অপসারণ, ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আতঙ্কে অনেক ছাত্রী হল ত্যাগ করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় দিনের মতো মিছিল-সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও মূলত ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তরা এর নেতৃত্ব দেন। তারা বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালসহ উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারের অপসারণ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জনে বাধ্য করে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করতে শিক্ষকরা এগিয়ে এলে তারা কয়েক শিক্ষককেও অপদস্থ করেন। তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেলা ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষ হয় বেলা ১টার দিকে। বৈঠকে সামগ্রীক পরিস্থিতি পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। 
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। তাই তার মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। যে কারণে সন্ধ্যার পর সার্কিট হাউজে তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠক করবে। সেখানে আমিও থাকব। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক চলছিল। 
এদিকে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তা সত্ত্বেও ছাত্রীদের অনেকেই হল ত্যাগ করছেন। আতঙ্কের কারণে তারা হল ছাড়ছেন বলে জানান একাধিক ছাত্রী।
এছাড়া উপাচার্যের অপসারণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ওই অংশটি। ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম সারিতে বসে থাকা প্রায় সবাই ছিলেন ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেনেটিক সাইন্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শেখ শাকিল আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, ভর্তি ফি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার টাকা করলেও রশিদে কোন খাত উল্লেখ করা হচ্ছে না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির অপব্যবহারসহ, তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দলনের অভিযোগ আনা হয়েছে উপচার্যের বিরুদ্ধে। 
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে স্লোগান দিয়ে মিছিল করায় ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। উপাচার্য যখনই তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হতে দেখেছেন তখনই তিনি এমন কর্মকান্ডসহ ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা দেন। যে কারণে সংবাদ সম্মেলন থেকে তার অপসারণ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফার্মাসিস্ট বিভাগের ছাত্র সাব্বির আহমেদ, অনুজীব বিভাগের শফিকুল ইসলাম, কেমিকেল বিভাগের ফয়সাল আহমেদ, হেলাল উদ্দিন, শিমেল আল হিমেল ওয়াহেদুজ্জামান প্রমুখ।
অন্যদিকে, শনিবারের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। রোববার সকাল থেকে ফের বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তদন্ত কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল।
প্রসঙ্গত, রাজনীতিমুক্ত যবিপ্রবিতে ছাত্রলীগ গতবছর কমিটি গঠন করে। এই কমিটি নিয়ে বিবাদে রিয়াদ নামে এক মেধাবী ছাত্র নিজ সংগঠনের বহিরাগত ক্যাডারদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছাত্রত্ব খারিজ করে দেন কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার তারা কারাগার থেকে বের হবার পর ক্যাম্পাস ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


- See more at: http://gramerkagoj.com/2015/03/30/57295.php#sthash.w6CgaAsA.dpuf