eibela24.com
মঙ্গলবার, ১৬, অক্টোবর, ২০১৮
 

 
বিশ্বনন্দিত বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার ৬১তম মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
আপডেট: ০৯:৪৩ pm ১৬-০২-২০১৭
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

বিশ্বনন্দিত বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা (জন্মঃ- ৬ অক্টোবর, ১৮৯৩ – মৃত্যুঃ- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬) (“মেঘনাদ সাহা” - শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় এবং এনাক্ষী চট্টোপাধ্যায় - NATIONAL BOOK TRUST, GOI -বইটি অনুযায়ী)

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হয়েছে। লর্ড কার্জনের বাংলা ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানারকম আন্দোলন চলছে দেশব্যাপী। একদিন স্কুলে যাবার পর অনেকের সাথে মেঘনাদকেও আলাদা করে লাইনে দাঁড় করানো হলো। তাদের অপরাধ – তারা খালি পায়ে স্কুলে এসেছে। মেঘনাদের জুতো কেনার টাকা নেই। সে খালি পায়েই স্কুলে আসে প্রতিদিন। কিন্তু সেদিনটা ছিল অন্যরকম। বাংলার গভর্নর ফুলারের আগমণ উপলক্ষে ঢাকায় ছাত্ররা প্রতিবাদ-মিছিল বের করেছে। পায়ে জুতো না-পরাটাও ছিল প্রতিবাদের অংশ। কলেজিয়েট স্কুলে খালি-পায়ের ছেলেদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। অনেকের সাথে মেঘনাদকেও স্কুল থেকে বহিস্কার করা হলো। বাতিল করা হলো তার বৃত্তি। এখন কোথায় যাবে মেঘনাদ?

সমগ্র বিজ্ঞানের জগতে আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে ক’জন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের ওপর – অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের অন্যতম। তার আবিষ্কৃত সাহা আয়োনাইজেসন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলী ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ (আয়নাইজেশান ইকুয়েশান) প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই এই সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত। নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আর্নল্ড সামারফেল্ড, নীল্‌স বোর, ম্যাক্স বর্ন, আলবার্ট আইনস্টাইন, আর্থার এডিংটন, এনরিকো ফার্মি, আর্থার কম্পটন প্রমুখ দিকপাল মুগ্ধতার সাথে স্বীকার করেছেন মেঘনাদ সাহার অনন্য প্রতিভার কথা। গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ পাবার পাশাপাশি মেঘনাদ সাহা নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন চার বার। দেশে নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু হয়েছে মেঘনাদ সাহার হাতে। নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, ইন্ডিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটি, ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ এসোসিয়েশান – সবগুলো সংগঠনই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মেঘনাদ সাহার নেতৃত্বে। বাংলাদেশ ও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই মেঘনাদ সাহার ‘টেক্সট বুক অব হিট’ বইটা পড়েছেন। মেঘনাদ সাহা মূলত পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন না। তিনি বিএসসি ও এমএসসি পাশ করেছেন মিশ্র গণিতে। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় পদার্থবিজ্ঞান শুধু শিখেছেন তাই নয় – ক্রমশঃ পৌঁছে গেছেন এই বিষয়ের শিখরে। উপমহাদেশে প্রথম সাইক্লোট্রন স্থাপিত হয় মেঘনাদ সাহার প্রচেষ্টায়। অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পরও থেমে থাকেন নি তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন তিনি। দরিদ্র অশিক্ষিত মা-বাবার সন্তান হয়েও মেধা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে একজন মানুষ যে কত বড় হয়ে উঠতে পারেন মেঘনাদ সাহা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

জীবনী
মেঘনাদ সাহার জন্ম ঢাকার কাছে শ্যাওড়াতলী গ্রামে। গরীব ঘরে জন্ম তার। গ্রামের দরিদ্র মুদিদোকানী জগন্নাথ সাহা ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে মেঘনাদের জন্ম। ভীষণ ঝড়বৃষ্টির মধ্যে জন্মেছিলেন বলে ঠাকুরমা নাম রেখেছিলেন মেঘনাথ। পরে স্কুলে যাবার সময় নাম বদলে মেঘনাদ করা হয়। আট ভাই-বোনের মধ্যে মেঘনাদ পঞ্চম। ছয় বছর বয়সে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করানোর পাশাপাশি মেঘনাদকে দোকানে নিজের পাশে বসিয়ে কাজও শেখাতে শুরু করলেন বাবা জগন্নাথ সাহা । তিনি জানেন তাঁর ছেলেদেরকে এই দোকান চালিয়েই ভরণপোষণ চালাতে হবে। তাই ছেলে যদি স্কুলে সামান্য একটু পড়তে এবং ছোটখাট হিসেব করতে শিখে তাতেই কাজ চলবে। কিন্তু দোকানে মন বসে না মেঘনাদের, মন পড়ে থাকে স্কুলের বইতে, অংকের খাতাতে। মেঘনাদের প্রতিভায় মুগ্ধ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকেরা। প্রাইমারি স্কুলের পড়াশোনা শেষ হবার পর তাঁরা মেঘনাদের বাবাকে অনুরোধ করলেন মেঘনাদের লেখাপড়া বন্ধ না করতে। কিন্তু বাবা ভাবলেন- অনেক হয়েছে, আর পড়াশোনার দরকার নেই। এবার পুরোপুরি দোকানে বসুক। বড়ছেলে জয়নাথকে হাইস্কুল পর্যন্ত পড়িয়ে অনেক শিক্ষা হয়েছে তাঁর। মাধ্যমিক-ই পাশ করতে পারলো না ছেলেটা। মাঝখান থেকে অতগুলো টাকা গচ্চা গেলো। ম্যাট্রিক ফেল করে ছেলে এখন জুট মিলে কাজ করে মাসে বিশ টাকা পায়। সংসারের কী লাভ হলো তাতে? জগন্নাথ সাহা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন – মেঘনাদকে আর পড়াবেন না।

কিন্তু মেঘনাদের চেয়ে তেরো বছরের বড় দাদা জয়নাথ ভাইয়ের কষ্টে চুপ করে থাকতে পারলেন না। তিনি শিমুলিয়া গ্রামে গিয়ে সেখানকার অবস্থাপন্ন কবিরাজ অনন্ত কুমার দাসের হাতে পায়ে ধরে মেঘনাদকে তাঁর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। কবিরাজবাবু দয়ালু মানুষ। মেঘনাদকে বাড়িতে রাখতে রাজী হলেন। থাকা খাওয়ার জন্য কোন টাকা-পয়সা দিতে হবে না। কবিরাজবাবু যে তাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন তাতেই সে কৃতজ্ঞ। মন দিয়ে লেখাপড়া করলো মেঘনাদ। নিম্ন-মাধ্যমিক পরীক্ষায় সমগ্র ঢাকা জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সরকার থেকে মাসিক চার টাকা বৃত্তি পেলো মেঘনাদ।

এবার বাড়ি থেকে পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে কোন আপত্তি করলেন না মেঘনাদের বাবা। ১৯০৫ সালে বারো বছর বয়সে ঢাকায় এলো মেঘনাদ। কলেজিয়েট স্কুলের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হলো। মাসিক চার টাকা সরকারি বৃত্তি ছাড়াও পূর্ব-বঙ্গ বৈশ্য সমিতি থেকে পাওয়া গেলো মাসিক দু’টাকা বৃত্তি। মাত্র ছয় টাকা দিয়ে সারা মাসের থাকা-খাওয়া আর লেখাপড়ার খরচ কীভাবে চালাবে মেঘনাদ? ভেবে অস্থির হয়ে গেলেন মেঘনাদের দাদা জয়নাথ। নিজে জুটমিলে কাজ করে বেতন পান মাত্র বিশ টাকা। সেখান থেকেই মাসে পাঁচ টাকা করে ভাইয়ের জন্য পাঠাতে শুরু করলেন জয়নাথ। মাসিক এগারো টাকায় ভালোভাবেই চলে যাচ্ছিলো মেঘনাদের। কিন্তু হঠাৎ করে একটা বড় রকমের সমস্যায় পড়ে গেলো মেঘনাদ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হয়েছে। লর্ড কার্জনের বাংলা ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানারকম আন্দোলন চলছে দেশব্যাপী। একদিন স্কুলে যাবার পর অনেকের সাথে মেঘনাদকেও আলাদা করে লাইনে দাঁড় করানো হলো। তাদের অপরাধ – তারা খালি পায়ে স্কুলে এসেছে। মেঘনাদের জুতো কেনার টাকা নেই। সে খালি পায়েই স্কুলে আসে প্রতিদিন। কিন্তু সেদিনটা ছিল অন্যরকম। বাংলার গভর্নর ব্যামফাইল্ড ফুলারের আগমণ উপলক্ষে ঢাকায় ছাত্ররা প্রতিবাদ-মিছিল বের করেছে। পায়ে জুতো না-পরাটাও ছিল প্রতিবাদের অংশ। কলেজিয়েট স্কুলে খালি-পায়ের ছেলেদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। অনেকের সাথে মেঘনাদকেও স্কুল থেকে বহিস্কার করা হলো। বাতিল করা হলো তার বৃত্তি। এখন কোথায় যাবে মেঘনাদ? 
তখন ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে সারাদেশে। সরকারী স্কুল-কলেজে যে রকম বহিস্কারের ধুম চলছে – সাথে সাথে বেসরকারী স্কুল-কলেজেও চলছে বহিস্কৃত ছাত্রদের ভর্তির ব্যবস্থা। ঢাকার কিশোরী লাল জুবিলী স্কুলে বিনাবেতনে মেঘনাদের ভর্তির ব্যবস্থা হলো। একটা বৃত্তিও দেওয়া হলো থাকা-খাওয়া চালানোর জন্য। ব্যাপ্টিস্ট মিশন পরিচালিত দেশ-ব্যাপী বাইবেল পরীক্ষায় মেঘনাদ প্রথম স্থান অধিকার করে একশ’ টাকা পুরষ্কার পেলো। টাকাটার খুব দরকার ছিল মেঘনাদের। ১৯০৯ সালে সারা পূর্ব-বাংলায় প্রথম স্থান অধিকার করে এন্ট্রান্স পাশ করলো মেঘনাদ।

এবার কলেজের পড়াশোনা শুরু হলো ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় মেঘনাদ সাহার প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় কলেজ ম্যাগাজিনে – হ্যালির ধুমকেতু সম্পর্কে। উচ্চ-মাধ্যমিকে অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে জার্মান ভাষার পরীক্ষা দিলো মেঘনাদ। ১৯১১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেন মেঘনাদ সাহা। পূর্ব-বাংলায় প্রথম স্থান এবং কলকাতা সহ সমগ্র বাংলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করলেন মেঘনাদ।

এবার বিএসসিতে ভর্তি হলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ১৯১১ সালে। প্রেসিডেন্সি কলেজে তখন তারার মেলা। পদার্থবিজ্ঞান পড়াচ্ছেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রসায়নের অধ্যাপক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। সহপাঠীদের মধ্যে আছেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু – যিনি সব পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। আছেন জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, নীলরতন ধর, নিখিল রঞ্জন সেন প্রমুখ – পরবর্তীতে এঁদের সবাই যার যার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রশান্ত চন্দ্র মহ্লানবীশ ছিলেন মেঘনাদের এক বছর সিনিয়র। ১৯১৩ সালে গণিতে অনার্স সহ বিএসসি পাশ করলেন মেঘনাদ। পরীক্ষায় মেঘনাদ সাহা প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেন, আর প্রথম হলেন সত্যেন বসু।

এদিকে বাংলার বিখ্যাত সব মানুষেরা বাংলার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন যে যেভাবে পারেন। ১৯০৬ সালে উপাচার্য হবার পর থেকে স্যার আশুতোষ মুখার্জি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দিনরাত। ১৯১৪ সালে দু’জন নামকরা উকিল তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য প্রচুর টাকা দিয়েছেন। সেই টাকায় প্রতিষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান কলেজ। বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা করার কিছুদিন পর স্যার আশুতোষ মুখার্জির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে ছিলেন তিনি। বিজ্ঞান কলেজের জন্য উপযুক্ত শিক্ষক খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তিনি। দেশের সেরা ছাত্রদের ডেকে এনে চাকরি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্যার আশুতোষ মুখার্জি ১৯১৫ সালের এমএসসি পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সত্যেন বসু ও মেঘনাদ সাহাকে ডেকে নিলেন ১৯১৬ সালে। দু’জনেরই চাকরির দরকার ছিল তখন। দু’জনই যোগ দিলেন গণিত বিভাগের প্রভাষক পদে।

গবেষণা
মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা করেন। তাপীয় আয়নবাদ (Thermal Ionaisation) সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

মেঘনাদ সাহা সম্পর্কে আলবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি
Dr. M.N. Shaha has won an honoured name in the whole scientific world.

রচিত গ্রন্থাবলী
The Principle of Relativity
Treatise on Heat
Treatise on Modern Physics
Junior Textbook of Heat with Metereology

তথ্যঃ- (মেঘনাদ সাহা - শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় এবং এনাক্ষী চট্টোপাধ্যায় - NATIONAL BOOK TRUST)

 

এইবেলাডটকম/প্রচ