eibela24.com
রবিবার, ২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
ভালুকায় ৭ বছরেও চালু হয়নি কাদিগড় জাতীয় উদ্যান
আপডেট: ০২:৩৬ am ০১-০৪-২০১৭
 
 


ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ভালুকায় সাত বছর হলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি কাদিগড় জাতীয় উদ্যান।

পশ্চিম ভালুকার মানুষের উন্নয়নের আশায় উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও এলাকায় ভালুকা রেঞ্জের অধীনে কাদিগড় বন বিটের অর্ন্তগত সরকারীভাবে ২০১০ সাল থেকে থেমে থেমে একটু একটু কাজ চলছে এই কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের।ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান হতে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে ভালুকার কাদিগড় জাতীয় উদ্যান। বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত ভালুকায় বেশ কয়েকটি স্থানে আয়তনে স্বল্প পরিসরের হলেও বেসরকারী ভাবে অনেকেই গড়ে তুলেছেন বানিজ্যিক বিনোদন পার্ক । যেখানে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের লোকজন পিকনিক করতে আসতে দেখা যায় ওইসব পার্কে। অথচ এসব জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে কোন ছোঁয়া নেই।

সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের পশ্চিমদিকের অরক্ষিত প্রধান ফটকের গেইট খোলা, সেন্টিপোষ্টে কোন লোকজন নেই, পাশের ওয়ালে করা চিত্রকর্মের রং উঠে পুরোনো হয়ে গেছে। একটু ভিতরে যেতে চোখে পরলো কয়েকটি গোলঘর, পুকুরের পাশে ব্যংঙের ছাতা, শিশু পাকের্র দোলনা ও খেলনা গুলিতে জং ধরে গেছে। এখানে সেখানে সিমেন্টের তৈরী বেঞ্চ রয়েছে কিন্তু সেটাও অপরিষ্কার।মাঝে মধ্যে এক দুটি বানর বের হয়ে এগাছ থেকে সে গাছে লাফালাফি করছে আর মুখ ভেংচে উকি মারছে। উদ্যান ঘুরে আরও চোখে পড়ে মেছুবাঘ, বানর,লজ্জাবতী বানর, হনুমান, গকোল ও নানা প্রজাতির মুক্ত পাখির সমাগম রয়েছে উদ্যান এলাকায়।

কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, ২০১০ সালে ৮৫০ একর জমি নিয়ে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের কাজ শুরু হয়েছে। এখানে কিছু কাজ হলেও অনেককিছু করা হয়নি। উদ্যানটিতে রয়েছে আংশিক সীমানা প্রাচীর, মেইন গেইট, টিকেট কাউন্টার, সেন্টিপোষ্ট ৩ টি, শিশু পার্ক ১ টি, পুকুর ২ টি, ওয়াচ টাওয়ার ১ টি, পিকনিক স্পট ১ টি,  আরও কিছু ছোট খাটো জিনিষ তৈরী হয়েছে। বনের মাঝখানে খালি জায়গা রয়েছে যেখানে খনন করে লেক তৈরী করা সম্ভব এতে চিত্ববিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তিনি আরও জানান, "উদ্যান উন্নয়নের লক্ষে ম্যানেজম্যান্ট প্লান্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিল প্রকৃয়াধীন রয়েছে । তারপরও মাঝে মধ্যে পিকনিক পার্টি আসে।

তিনি মনে করেন উদ্যান চালু হলে এটি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মত একটি গুরুত্বপুর্ণ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আসবে সরকারের কোষাগারে। এছাড়াও এলাকার বেকার যুবকদের ব্যবসায়িক কর্ম সংস্থান বাড়বে।তবে তাদের উদ্যান পরিচালনার জন্য এখনও অনেক কিছু গড়ে উঠেনি যা দর্শনার্থীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এছারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ লোকবলের অভাব রয়েছে। বন বীটের কাজে নিয়োজিত যারা আছেন তাদের দ্বারাই আপাতত উদ্যান দেখাশোনার কাজ চালানো হচ্ছে।  

এইবেলাডটকম/এবি