eibela24.com
শুক্রবার, ২১, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
আলোর সন্ধানে --- নির্বাচিত ভাষণ।
আপডেট: ০১:৫৯ pm ০৫-০৬-২০১৭
 
 


ছায়া ব্যানার্জি, মুম্বাই,ভারত : রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা- এর শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে গত ২৩ মার্চ, ২০১৭ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠান সূচীর মধ্যে প্রধান অতিথি বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণায়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমপি কর্তৃক “বিবেকানন্দ শিষ্য- শরচন্দ্রের জীবনী ও রচনাবলী”গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এতে গ্রন্থের লেখিকা শরচ্চন্দ্রের দৌহিত্রী শ্রীমতি ছায়া ব্যানার্জি উপস্থিত সুধী মন্ডলীর সম্মুখে বক্তব্য দেন তা এখানে বিধৃত হলো।মাননীয় প্রধান অতিথি, অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী ধ্রুবেশানন্দজী, উপস্থিত শ্রদ্ধেয় সন্ন্যাসী মহারাজগন, মঞ্চে উপস্থিত মাননীয় মহাদয়গন ও আমার প্রিয় ভাই বোনেরা, সকলকে আমার যথাযোগ্য প্রণাম ও ভালোবাসা।আমি, ছায়া ব্যানার্জি, মুম্বাই শহরে, ভারতে বাস করি।স্বামী বিবেকানন্দ-শিষ্য শরচ্চন্দ্র চক্রবর্ত্তী লিখিত গ্রন্থ “ স্বামি- শিষ্য-সংবাদ” এ পর্যন্ত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন থেকে ৩২ সংস্করণ, ১৪টি ভারতীয় ভাষায় অনুবাদসহ প্রকাশিত হয়ে চলছে।এই গ্রন্থ পাঠে অনুপ্রানিত হয়ে বহু যুবক ম্রীরামকৃষ্ণ মঠে সন্ন্যাসী হয়ে যোগদান করেছেন।

এহেন বিখ্যাত মহাপুরুষ,স্বামীজি যাকে স্নেহভরে বাঙ্গাল বলে ডাকতেন, তাঁর কোন জীবনীগ্রন্থ এ পর্যন্ত প্রকাশিত ছিল না। আমি সৌভাগ্য ক্রমে তাঁর দৌহিত্রী, শরচ্চন্দ্রের জ্যেষ্ঠা কন্যা, ইন্দ্রিরার কন্যা, ছায়া।“বিবেকানন্দ-শিষ্য শরচ্চন্দ্রের জীবনী ও রচনাবলি” গ্রন্থটি আমার দ্বারা লেখা।শরচ্চন্দ্রের জন্মস্থান ফরিদপুর, বর্তমানে বাংলাদেশ,অর্থাৎ বাঙ্গাল- এর জন্মস্থান কৌতুহল বশতঃ দেখতে ইচ্ছে জাগে।গতকাল এখানে অধ্যক্ষ মহারাজের ব্যবস্থাপনায় সকাল ৬টায় রওনা হয়ে রাত ১০ টায় মঠে ফিরে আসি।

আমার সঙ্গী ছিলেন শ্রী সুভাষ তপাদার, শ্রী শিব শঙ্কর মোদক , সাংবাদিক, আমার স্বামী দীরেন্দ্র কুমার ও পুত্র শুভাষিশ।শ্রী শরচ্চন্দ্রের নিজস্ব বাড়ি ও পুকুর ইত্যাদি এখন  শ্রী মুশাররফ ও তাঁর পরিবারের বাস।আমাদের খুবেই আদর আপ্যায়ন করলেন ও প্রচুর সম্মান দিলেন।দাদা মশাইর  কৃত বাঁধানো পুকুরঘাটটি এখনও ব্যবহার যোগ্য।সেই পুকুরের পবিত্র জল স্পর্শ করে মাথায় ঠেকালাম।সেই গৃহের পবিত্র মাটি সঙ্গে করে নিলাম।কোটাপাড়া যাবার পথে,হরিমন্দির সভায় কিছুক্ষণ মন্দির কমিটির সদস্যের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়।

কথায় জানলাম, তাঁরা কেউই, এমনকি ৯০ বছর পার বৃদ্ধও শরচ্চন্দ্রের নাম শোনেনি।স্বামী-শিষ্য-সংবাদ বইখানি সমন্ধে অবগত নন।আমি তাদের অনুরোধ করলাম,তাঁদের নির্ধারিত বক্তৃতামালা ও আলোচনা চক্রে যদি শরচ্চন্দ্রের জীবন বিষয়ক কোন প্রোগ্রাম নিয়মিত রাখেন তাহলে আমাদের ঢাকা মঠ থেকে সন্ন্যাসীরা এসে নিয়মিত এখানে ক্লাস নিতে পারেন এবং গ্রামে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দ পরিচিত হতে পারেন।সভাপতি মশায় জানালেন এ বিষয়ে তাঁরা মিটিংয়ে আলোচনা করে সময়মত আমাকে জানাবেন।

আমার একান্ত ইচ্ছে ছিল,বাঙ্গাল –এর জীবনী গ্রন্থ বাংলাদেশেই প্রকাশিত হোক।সেই ইচ্ছে পূর্ণ হওয়ায় আমি বিশেষ আনন্দিত। এজন্য সর্বপ্রথম আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাপূর্ণ জানাই স্বামী সমচিত্তানন্দজীকে।তাঁর চেষ্টা ও ব্যবস্থাপনায় এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে ।পূজনীয় স্বামী ধ্রুবেশানন্দজী আমাদের চিরঋণে আবদ্ধ করেছেন,এই গ্রন্থ ঢাকা মঠ  থেকে প্রকাশ করার জন্য তিনি রামকৃষ্ণ মঠ মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী স্বামী সুহিতানন্দজীর সঙ্গে বারবার অলোচনায় বসেছেন,এই গ্রন্থ প্রকাশনার বিষয়ে নানা খুঁটি নাটি,চিন্তাভাবনা করে,একে বাস্তবায়িত করতে সফল হয়েছেন।

এরপর স্থিরাত্মানন্দজীকে অজস্র ভক্তিপূর্ণ প্রমাণ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও শরচ্চন্দ্রের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা থাকায় দিনের পর দিন এই কাজে ব্রতী হয়ে এই কাজকে সাফল্য মন্ডিত করেছেন।শ্রীকল্যাণময় সরকার, সব থেকে দায়িত্বপূর্ণ অধ্যায় , প্রুফ সংশোধন করে দিয়ে,গ্রন্থটিকে দ্রুত প্রকাশ করতে সাহায্য করেছেন তাকে আমার শ্রদ্ধাপূর্ণ নমস্কার।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশঃ উত্তরা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর বার্ষিক প্রকাশনা ‘সারদা’ সম্পাদনা পরিষদ।

এইবেলাডটকম/এবি