eibela24.com
সোমবার, ২৪, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
উচ্চশিক্ষার জন্য অতিরিক্ত বেতন দেবে সরকার
আপডেট: ১০:৪৬ am ০২-০৭-২০১৭
 
 


ঢাকা : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর উচ্চতর শিক্ষা বা ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত বেতন দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। তারা ইতিমধ্যে একটি বৈঠকও করেছে।

উচ্চতর শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার উদ্যোগ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে তা থেমে যায়। সেই সময় আন্ত মন্ত্রণালয় সভাসহ দফায় দফায় বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু ইতিবাচক হলেও আমাদের দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। এখনো প্রশাসনে অনেক ডিপ্লোমাধারী, পিএইডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন। একটু খোঁজ করলেই দেখা যায় তাঁরা যে বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন তাঁদের পোস্টিং সে বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এসে চাকরি করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে। একমুখী শিক্ষার ওপর উচ্চডিগ্রি নিয়ে এসে কাজ করছেন এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর-অধিদপ্তরে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অনুবিভাগ হচ্ছে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং। এই অনুবিভাগের কাজই হচ্ছে যার যে বিষয়ে লেখাপড়া আছে তাকে সেই বিষয়ে পদায়ন করা। বা যার যে বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে তাকে সেই বিষয়ে কাজে লাগানো। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং আজও কার্যকর হতে পারেনি। অদূর ভবিষ্যতে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না সে বিষয়েও নিশ্চিত না। এর কারণ হচ্ছে—কর্মকর্তারা তদবির করে বা রাজনৈতিক লবিংয়ের জোরে পোস্টিং নেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গুচ্ছ মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্ত ছিল। সে সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার।

মন্ত্রণালয়গুলোর গুচ্ছায়ন সম্ভব হলে একজন কর্মকর্তার নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব। মন্ত্রণালয় গুচ্ছায়নের বিষয়টি শামসুল হুদা কমিশনের একুশ শতকের জনপ্রশাসনে সুপারিশ থাকলেও তা সরকার কার্যকর করেনি।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যখন একজন কর্মকর্তাকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তখন তিনি একটি বড় সুযোগ পাচ্ছেন। কারণ তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

চাকরিতে সিনিয়রিটি পাচ্ছেন। তার পরও তাঁকে অতিরিক্ত বেতন দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। যে সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন সেই তিন বছর তিনি কোনো কাজ করেননি। যদি উচ্চশিক্ষার জন্য অতিরিক্ত বেতন দিতেই হয়, সেটা দেওয়া উচিত বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সংস্থায় যাঁরা কাজ করেন তাঁদের।

বিভিন্ন কৃষি সংস্থায় কর্মরত বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছেন। এ ধরনের বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাঁরা উচ্চশিক্ষা নেবেন তাঁদের অতিরিক্ত বেতন দেওয়া যুক্তিযুক্ত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদেশ প্রশিক্ষণ গবেষণা ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপি ব্রাঞ্চ চাকরিতে প্রবেশের পর উচ্চতর শিক্ষা বা ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত বেতন প্রদানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। ২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছিল। ওই সভাতেই উচ্চতর ডিগ্রিধারী সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত থাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব অর্থ বিভাগের তৎকালীন সচিবের কাছে চিঠি লেখেন। অর্থ বিভাগ শিক্ষা ক্যাডার ছাড়া বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরিকালীন আর্থিক সুবিধা দিতে কিছু শর্ত দেয়। সেসব শর্ত পূরণ করতে না পারার জন্যই বিষয়টি আটকে যায়। দীর্ঘদিন পর বিষয়টি আবারও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উম্মুল হাছনাকে প্রধান করে চাকরিতে প্রবেশের পর উচ্চতর শিক্ষা বা ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত বেতন প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ৮ জুন। ওই সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখা থেকে জানানো হয়, যে প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চাকরিতে প্রবেশের পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য অতিরিক্ত বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই।

এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় চাকরিতে প্রবেশের পর বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স, এমএসএস এবং ডিপ্লোমা করার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিপ্লোমা, মাস্টার্স, এমএসএস এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিদ্ধান্তটি কেন বাস্তবায়ন হয়নি তা জানানোর জন্য ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এইবেলাডটকম/এএস