eibela24.com
শুক্রবার, ১৬, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
ব্রিটেনে জঙ্গিবাদ বিস্তারে সৌদি অর্থায়নের অভিযোগ, চাপের মুখে থেরেসা
আপডেট: ০৯:১৯ am ০৬-০৭-২০১৭
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  ব্রিটেনে জঙ্গিবাদের বিস্তারে বিদেশি অর্থায়নের একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকে আসে বলে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে সৌদি অর্থায়নের উৎস নিয়ে সরকারি তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি অর্থায়নের উৎস কী তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রিটেনে জঙ্গিবাদের বিস্তারে বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে সরকারিভাবে তৈরি করা প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে চাপে রয়েছেন তখনই নতুন এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।

 

যুক্তরাজ্যে জঙ্গিবাদে বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে গত বছরই একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলো দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি প্রকাশ্যে আনেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কারও কারও অভিযোগ যুক্তরাজ্যের মিত্র সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা বের হয়ে আসায় তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। গ্রিন পার্টির নেতা ক্যারোলিন লুকাস বলেন, ‘এই প্রতিবেদন প্রকাশে দেরি করায় প্রশ্ন উঠছে সৌদি আরব হয়তো আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ককে ব্যবহার করে বিষয়টিকে প্রভাবিত করছে’।

এই প্রেক্ষাপটে হেনরি জ্যাকসন সোসাইটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করেছে ব্রিটেনের জঙ্গিদের কাছে বড় অংকের যোগান আসে সৌদি আরব থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, ইরানসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ মসজিদ এবং ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। আর এ সহায়তা উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকদের কাছে যাচ্ছে এবং তারা জঙ্গি উপকরণের বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

হেনরি জ্যাকসনের প্রতিবেদনে বিদেশি অর্থায়নকারীদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরবের নাম। আর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বড় ব্যবসায়িক অংশীদার হলো সৌদি আরব। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তি ও ফাউন্ডেশনগুলো ‘সংকীর্ণ ও গোঁড়া ওয়াহাবি মতাদর্শ’ বিস্তারে জড়িত। আর যুক্তরাজ্যের যেসব প্রতিষ্ঠান সৌদি তহবিল পায় সেগুলো সরাসরি সৌদি আরব থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মে। ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে যখন তিনি চাপের মুখে, সেসময় প্রথম সফর করেছিলেন সৌদি আরবেই।

প্রতিবেদন চেপে যাওয়ার বিষয়টি আরও বিতর্ক উস্কে দেয় যখন ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজে হামলা হয়।

গার্ডিয়ান জানায়, জঙ্গিবাদে বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে সরকারি প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আর এর অনুমতি দেন মে। ডাউনিং স্ট্রিট ও হোম অফিস থেকে জানানো হয়, এটা প্রকাশের বিষয়টি একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপরই নির্ভর করছে। নির্বাচনের সময়, লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা টিম ফ্যারন বলেছিলেন, ২০১৬ সালেই এই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। তবে পরে স্বরাষ্ট্র দফতর জানায়, প্রতিবেদনে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

আইএস সদস্য
স্বরাষ্ট্র দফতরের জুনিয়র মন্ত্রী সারাহ নিউটন বলেন, যুক্তরাজ্যে ইসলামি জঙ্গিবাদে অর্থায়নের বিষয়টি সাবেক প্রধানমন্ত্রীই দেখাশোনা করেছেন। আর ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্টটি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনে সরকার বুঝতে পারে আসলে কারা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করছে এবং কত টাকা করছে। জনসমক্ষে প্রকাশের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

চলতি সপ্তাহে লুকাস পার্লামেন্টেও এই প্রশ্ন তোলেন। প্রশ্নের জবাবে থেরেসা মে জানান, তিনি ও তার মন্ত্রীরা এখনও চিন্তা করে দেখছেন বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করা ঠিক হবে কিনা।

তবে এই দেরিকে অবাক করা বিষয় বলে মনে করেন গ্রিন পার্টির নেতা লুকাস। তিনি দাবি করেন, সরকারের অবশ্যই এটা প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে এই রিপোর্ট আছে কিন্তু কোনও যুক্তি না দেখিয়েই তারা গোপন করে যাচ্ছে।’

ব্রাইটন প্যাভিলিয়নের এই এমপি আরও বলেন, এই দেরি করার সঙ্গে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে রাজনীতিবিদদের সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে হবে। সরকারি নীতির সঙ্গে সেটা সামঞ্জস্য না হলেও এই কাজ থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়।’

লেবার নেতা জেরেমি করবিন ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজনও এই প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটের মুখপাত্র টম ব্রেকও থেরেসা মে’কে এক চিঠির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে আনার দাবি জানান।

আলোচনার পর রিপোর্টটি প্রকাশ হতে পারে ফ্যারন এমন দাবি করলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যাম্বার রুড ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন এই রিপোর্ট হয়তো কখনোই প্রকাশ করা হবে না।

লুকাস বলেন, লন্ডন ব্রিজ ও ম্যানচেস্টারে হামলার পর জনগণ এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমি থেরেসা মে’কে আহ্বান জানাই যে তারা প্রকাশ করবে কি করবে না এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক। এবং খুব ভালো হয় যদি তারা এটি প্রকাশ করে।’

ফ্যারন বলেন, বিষয়টি প্রকাশের ক্ষমতা একমাত্র থেরেসা মে’র হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি চাপিয়ে রাখা প্রধানমন্ত্রীর ঠিক হচ্ছেনা। এতে বোঝা যাচ্ছে প্রতিবেদনে এমন কিছু আছে যেটা তিনি প্রকাশ করতে চান না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মন্ত্রীদের সৌদি সফর ও অস্ত্র চুক্তি নিয়ে অনেক কিছু শুনি। কিন্তু আমাদের সরকার তাদের সমালোচনা করে কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না। সবকিছুই আসলে বিশ্বে অত্যাচারী সরকার ও শাসনব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করে। আপনি দাবি করবেন যে নিরাপত্তা নিয়ে আপনি চিন্তিত। কিন্তু বিষয়টা আসলে তেমন না। তাই এই ব্যাপারে থেরেসা মে’র লজ্জিত হওয়া উচিত।’

 

এইবেলাডটকম/প্রচ