eibela24.com
বুধবার, ২৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
পুঠিয়া জমিদার বাড়ির রাণী হেমন্তকুমারীর জীবনী
আপডেট: ০৬:১৪ pm ০৮-০৭-২০১৭
 
 


রাজশাহী : ১৯৩৭ সালের মাঝামাঝি সময়। তখন রাজশাহী শহরে সুপেয় (খাবার) পানির অভাব দেখা দেয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আমাশয়-কলেরাসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।

নগরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়ে। সুপেয় পানির অভাবে ছোটাছুটি শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে এ সঙ্কট নিরসনে কলকাতার তত্ত্বাবধানে রাজশাহী শহরজুড়ে স্থাপন করা হয় শতাধিক পানির কল। দেখতে অদ্ভুত এ পানির কলগুলোই পরে ‘ঢোপকল’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এরপরে নগরবাসী পায় বিশুদ্ধ পানি।

তবে যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ ছিল না ঢোপকল তৈরির ইতিহাস। কলকাতা থেকে অনুমোদন এবং সহায়তা দিলেও তা ছিল অপ্রতুল। অর্থসঙ্কটের কারণে ঢোপকল প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছিল। অনেকের কাছে এ কল বানানোর জন্য অর্থ সহায়তাও চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে তৎকালীন ধনীদের মধ্যে এগিয়ে আসেন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া জমিদার বাড়ির রাণী হেমন্তকুমারী। তিনি ৬৫ হাজার টাকা দান করেন কল স্থাপন করার জন্য। পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হয় পৌনে ৩ লাখ টাকা। রাণী হেমন্তকুমারীর প্রতি সম্মান জানাতে তাই ঢোপকল প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছিল ‘হেমন্তকুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস।’

রাজশাহীবাসীর জন্য রাণী হেমন্তকুমারীর অবদান অনেক। রাজশাহী শহরে রাজশাহী কলেজের অধীনে মহারাণী হেমন্তকুমারী হোস্টেল, হেমন্তকুমারী সংস্কৃত কলেজ তার অবদানে নির্মিত হয়েছিল। এছাড়াও রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য আরও অনেক অবদানের কারণে রাণী হেমন্তকুমারীর নাম রাজশাহীবাসীর অনেকের জানা। কিন্তু এ রাণী হেমন্তকুমারীর জীবনী অনেকের কাছে অজানা। আসুন জেনে নেয়া যাক রাণী হেমন্তকুমারীর জীবনী।

১২৭৬ বাংলা সনে মানিকগঞ্জ জেলার ধুল্লা গ্রামে রাণী হেমন্তকুমারী জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ভুবনমোহন ও মাতার নাম দুর্গাসুন্দরী। হেমন্তকুমারীর পিতার বংশ মর্যাদা ছিল। কিন্তু ধন সম্পদ ছিল না। রাণী হেমন্তকুমারীরা তিন বোন ছিলেন। বড়বোন বসন্তকুমারীর বিয়ে হয়েছিল পাবনার তাঁতিবন্ধের জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর দত্তক ছেলে গোপাল গোবিন্দের সঙ্গে। 

গোপাল গোবিন্দের সহোদর কুঞ্জলাল ভাদুড়ী পুঠিয়া পাঁচ আনি রাজ সরকারে কর্মরত ছিলেন। মহারাণী শরৎসুন্দরীর দত্তকপুত্র যতীন্দ্র নারায়ণের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা চলছিল। কুঞ্জলাল ভাদুড়ী সেই সময় হেমন্তকুমারীর নাম প্রস্তাব করেন। এমন প্রস্তাবে সবাই সম্মত হন। ১২৮৭ বাংলা সালের ২৪ ফাল্গুন যতীন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে হেমন্তকুমরীর বিয়ে হয়। 

বিয়ের সাড়ে তিন বছরের মাথায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে ৬ মাসের সন্তান পেটে নিয়েই হেমন্তকুমারী বিধবা হন। মহারাণী শরৎসুন্দরী বাল্য-বিধবা হেমন্তকুমারীকে তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনসহ কাশীধামে থাকার ব্যবস্থা করেন। রাণী হেমন্তকুমারী কাশেধামে চলে যান। সেখানে ১২৯১ সালের ৬ আষাঢ় রাজকুমারী সুরেন্দ্র বালা জন্মগ্রহণ করেন। 

১২৯৩ বাংলা সালে মহারাণী শরৎসুন্দরী মৃত্যুবরণ করেন। হেমন্তকুমারী জমিদারি লাভ করেন। তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাণী হেমন্তকুমারী রাজশাহীর পুঠিয়ার পাঁচ আনি জমিদারি পরিচালনা করেছেন।

শেষ জীবনে মহারাণীর নানান রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। বাত, বহুমূত্র, কাশি প্রভৃতি রোগে তিনি ভুগছিলেন। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাকে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থার জন্য শলা-পরামর্শ শুরু হয়। এসময় তিনি কাশীতে অবস্থান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ও ১৩৪৯ সালের ২৭ আষাঢ় মৃত্যুবরণ করেন। 

এইবেলাডটকম /আরডি