eibela24.com
মঙ্গলবার, ২০, নভেম্বর, ২০১৮
 

 
সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন সামিরা
আপডেট: ১০:৫৫ pm ১৫-০৮-২০১৭
 
 


চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা। রোববার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভিডিওটিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইমন (সালমান শাহ) খুন হয়নি, আত্মহত্যা করেছেন।’
 

উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি রুবি সুলতানা গত ৭ জুলাই ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন; যাতে সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার (সালমান) স্ত্রী সামিরা ও তার (সামিরা) পরিবারকে দায়ী করা হয়েছে। ভিডিও বার্তায় রুবি বলেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, খুন হয়েছেন। সামিরাকে জিজ্ঞাসা করলেই মৃত্যুর রহস্য রেব হয়ে আসবে।’ এ ভিডিও বার্তা প্রচার হওয়ায় দীর্ঘ দুই যুগ পর সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে দেশব্যাপী আবার তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর এতদিন চুপচাপই ছিলেন সামিরা। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) কথা ভেবেই আমি কোথাও মুখ খুলিনি। আমাকে যেসব অপবাদ দেয়া হয়েছে সেসব নিয়ে রিঅ্যাক্ট করিনি। কারণ আমার যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে আমি কথা বলেছি। বারবার তদন্ত হয়েছে সালমানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে। আমাকে তলব করা হয়েছে।

আমি গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। যখন যে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তার জবাব দিয়েছি। আমার যেখানে যেখানে যেটা ক্লিয়ার করার করে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্লিয়ার করেই যাচ্ছি। এতে আমার কোনো ক্লান্তি বা আপত্তি নেই। কারণ আমি জানি আমি কোনো ভুল করিনি। আমিও সালমানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়েছি সব সময়। আমি জানি ইমন আত্মহত্যাই করেছে। সেদিন আমাদের বাসায় বাইরে থেকে কেউ আসেওনি, কেউ বেরও হয়নি। সেই সময় অনেক মানসিক প্রেসারে ছিল ইমন। সে এমন কিছু করে বসবে ভাবনাতেও ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘ইমন খুন হয়েছে দাবি করে রুবি যেসব কথা বলছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। এটিও রিজভীর মতো সালমানের মায়ের কোনো সাজানো পরিকল্পনা হতে পারে। এসব কথা প্রেসের কাছে বলতেও আমার সমস্যা ছিল না। কিন্তু আমি নিজেই ইচ্ছে করে প্রেসের সামনে আসতে চাইনি।’

কী এমন কারণ ছিল যার জন্য সালমানকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হল- এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘ঠিক কী কারণ ছিল সেটা তো আর আমি বলতে পারব না। তবে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, এফডিসি থেকে কিছু সংগঠন দ্বারা বয়কট হওয়ার প্রেসার, শাবনূরসহ আরও কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার সঙ্গে খানিকটা মতবিরোধ- ইত্যাদি কারণে মানসিক চাপে ছিল সালমান। মাঝখানে গাড়ি দুর্ঘটনাও হয় তার। সবকিছু মিলিয়ে ও বিধ্বস্ত ছিল। মৃত্যুর আগের কয়েকটা দিন বারবার শুধু সরি বলত আমার কাছে। আমাকে খুশি রাখার চেষ্টা করত। আমি ভাবিইনি এমন কিছু হয়ে যাবে।’

সালমানের মৃত্যুর পর আবারও নতুন করে জীবন শুরু করা প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, ‘তিনটা বছর একা একা কাটালাম। একটা সময় আমি ভেবেছি বিদেশ চলে যাব পড়াশোনা করতে। সেটা আর হয়নি। আমি ইমনের মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। তার স্মৃতি নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইলাম। তখন খুব প্রয়োজন বোধ করলাম যদি একটি সন্তান আমাদের থাকত! একটা সময় ইমনেরই বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। আমি তাকে ফিরিয়ে দেই। পরে তার পরিবার ও আমার পরিবারের প্রচেষ্টায় বিয়েটা হয়। আমি এখন ভালো আছি। বর্তমান সংসারে আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকে। তারপর আরও দুটি মেয়ে রয়েছে আমার। তারা ঢাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করছে।’

এতদিন পরও তাহলে কেন খুন কিংবা আত্মহত্যা রহস্যের ব্যাপারে আপনার নাম আসছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘যতদিন আমার বর্তমান পক্ষের শাশুড়ি বেঁচে ছিলেন, ইমনের মা কিন্তু চিৎকার চেঁচামেচি করেননি। অনেক দিন তিনি এসব নিয়ে কিছু বলতেন না। কারণ ইমনের মা আমার শাশুড়িকে হাড়ে হাড়ে চিনতেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন। যখনই আমার শাশুড়ি মারা গেলেন তিনি আমাকে নিয়ে নানারকম ব্লেইম দিতে শুরু করলেন। আমার সন্তানদের, আমার স্বামীর, আমার বাবা, মা, বোন ও তাদের পরিবারের যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে তার দায় নীলা চৌধুরীকে (সালমানের মা) নিতে হবে।’

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে।

নি এম