eibela24.com
মঙ্গলবার, ২৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৮
 

 
স্বরচিত সংগীত রচয়িতা শফি সরকারের অর্ধশতক ফোক গান
আপডেট: ০২:৫৭ pm ১১-০৯-২০১৭
 
 


যুগে যুগে কিছু মানুষ সৃষ্টি হয়েছে তাদের রয়েছে কোটি কোটি টাকা, ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি তারাই জীবন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এমন কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়, জীবনে কোন কিছুর মোহ নেই, নেই নূন্যতম মনের ইচ্ছা পূরণের উচ্চাকাঙ্খা।

অর্থের লোভ না থাকলেও প্রয়োজন আছে মনের তৃপ্তি মিটানোর ইচ্ছা। তাই বলা যায় এই সরল, প্রতিভাবান, কোমল মনরে মানুষ, শুধুই স্বপ্ন দখেনে গানরে জগৎ। এই জগতে বহুগুনের অধিকারী মানুষটি সবাইকে অবাক করে দেয়ার মতোই রেখেছেন প্রতিভা। স্বরচিত গানের নেশাটা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। নাম তার  মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার।

ধর্ম ও বিঞ্জান নিয়ে তার সঙ্গে বিস্তার কথা র্বাতা হয়েছে। ধর্মের সাথে বিঞ্জানের সংঘর্ষ নাকি মানুষের যথেষ্ট সণ্ধিহান রয়েছে। কানে কানে ধর্মের সাথে রক্তারক্তির ঘটনাও আছে ইতিহাসের পাতায়। ধর্ম ও বিঞ্জান নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথার প্রতিফলনেই তার লিখনে স্বরচিত গান। প্রাকৃতিক জগৎকে জানার এটাই একটা বিনোদন মাধ্যম।সঠিকভাবে বিঞ্জানের জ্ঞান ও কর্মের মাঝে রয়েছে যে সব জ্ঞান তাকেই কাজে লাগিয়েই গান লিখেন।   

যদি বিঞ্জানের আলোকে এ পন্থায় সংগীত চর্চায় অগ্রসর হন তাহলে তাদের বিদ্যা বুদ্ধির স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক বুদ্ধিজীবী, বিঞ্জানী, প্রগতিশীল, সুশীল ও আরো অনেক শিহরণ সৃষ্টিকারী লোক গানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধি করতে পারবেন বলে তার ধারনা। তার সৃষ্টি গানের সুর ও শব্দ ফোক গানের আদলে সমৃদ্ধ রয়েছে। সমাজে তার অবস্থান সর্ম্পকে তিনি বলেন, বিঞ্জানের মূল কথাই হচ্ছে যুক্তি ও প্রমাণ। তাই তিনি গানের সুরেই বলেন,
চলছে গাড়ী পজেটিভ, 
ব্রেক মারিলে হয়রে নেগেটিভ।
গানের কথায় শফিকুল,
বিঞ্জানীদের বাজাই ঢোল।
আলোক বর্ষ গেছে কতদূর। 
ঐ দর্শন হইতে দার্শনিক হয়, 
যুক্তি বিদ্যা নাম সপ্তম আসমান। 
কত দূরে নবীর হাদীস টান, 
আলোক র্বষ কে বুঝে, 
বিঞ্জানীদের খবর দে। 
সপ্তম আসমান পরে আছে কে?

তিনি লেখাপড়া বাদ দিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে কৃষি কাজে নেমেছিলেন। বিকেলে তার আড্ডা স্হান কুলার বিল থেকে পদ্মা নদীতে প্রবাহিত মধ্যবর্তী এক ‘শিবো’ নদীর পাশেই ধানুরা গ্রামে।তার সৃষ্টিশীল স্বরচিত গানের বাঁকে বাঁকে সুরের মুর্ছনা ও কথার ভেতর দিয়ে ভুবনকে দেখার যে আনন্দ, মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আসল দিক, মানুষের মাঝে প্রকৃত মানুষ খোঁজার এক আদর্শীক দৃষ্টান্ত, প্রকৃতির রূপ বদলের নান্দনিক ও ভয়ানক দুর্যোগ, দুর্ঘটনার ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক তুলে ধরার প্রবনতা রয়েছে। 

রাজশাহী জেলার তানোর থানায় ছয় নম্বর কামার গাঁ ইউনিয়নের ধানুরা গ্রামে তার জন্ম। বাবা স্কুল মাষ্টার মোঃ আব্দুর রহমান এবং তার মাতা মোছা: শুরভান বওেয়া একজন পর্দাশীল গৃহিণী।বাবা সারা জীবন শিক্ষার গর্ভে গ্রামে অজস্র মানুষকে পরিচালিত করেছেন।  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তার বাবা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি সরকার উদ্বুদ্ধ হয়েই গানের জগতে আসে। 
কৈশোরে স্বরচিত গানের সহিত মিউজিক বাজানোর উৎসাহ এবং পরচিতিটা ছিল অনেক উর্ধে ।মিউজিক বাজানো অভিঞ্জতা তার আসে যাত্রা গানের দলপ্রধান ওস্তাদ মোঃ তাসির উদ্দীনের কাছ থেকে।তিনি ১২ বছর হতেই যাত্রা গানে ভক্ত হয়ে যান। তারপর যাত্রা গান শুনতেন আবার গ্রামে যাত্রা গানের মধ্যে মিউজিক ম্যান হয়ে ঢুকেও পড়েন। সেখানে কংগো ও ডুগী তবলা বাজিয়েছেনে সাত আট বছর। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে গান ও মিউজিক বাজানোটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল। মিউজিক প্রেমী মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি সরকার তাদের সহযোগী হয়েই সকল অনুষ্ঠানে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত  মিউজিক বাজিয়েছেনে।   

আব্দুর রব বলেন, সবগুলো গানই বিঞ্জান চৈতন্য বোধের ফোক সংগীত। ফোক সংগীতের রচয়িতা শফিকুল ইসলাম শফি প্রায় ৫০/৫৫ টি গান রচনা করেছেন। এই ফোক গানে রচয়িতা ও সংগীত শিল্পীর ভাতিজা এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্সে পড়াশুনায় রত।শৈশব থেকেই তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজের ভক্ত।শিল্পী মমতাজকে পেলে তাকে গান শুনানোর ইচ্ছে পোষন করেন। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে র্ধম এবং বিঞ্জান উভয়ের প্রতি গভীর সর্মথনের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা যেন থাকে তার রচিত গানের কথা ও সুর। হয়তো কালের আবর্তনে মহাবিশ্বের শুরু থেকে ধ্বংস পর্যন্ত মোঃ শফিকুল ইসলাম শফির স্বরচিত গান যেন অক্ষুণ্য থাকে সে স্বীকৃতি ও আশা আকাঙ্খা পোষন করেন।

এনআইটি/পিএম