মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
মঙ্গলবার, ১০ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
অধ্যাপক আজাদের লাশটি নিতে দেয়নি অদৃশ্য ইঙ্গিতে 
প্রকাশ: ০৯:৩৭ pm ৩০-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৯:৩৭ pm ৩০-১১-২০১৬
 
 
 


ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ  দীর্ঘ ৩২ বৎসর যে কলেজে প্রিয় ছাত্রদের শিক্ষা দিয়েছেন, হাজার হাজার ছাত্রকে সর্বোচ্চ শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করেছেন প্রত্যন্ত ফুলবাড়ীয়ার ছাত্রদের সেই ফুলবাড়ীয়ায় অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের লাশটি তার প্রিয় কলেজে নিতে দেয়নি প্রশাসন।

কার ইঙ্গিতে এমন অমানবিক কাজটি করতে বাধ্য হয়েছে।  সেটা অবশ্যই তদন্তের দাবী রাখে। ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল  কালাম আজাদ। তার স্ত্রী ও সেই কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।

দীর্ঘ ৩২ বৎসরে তার চীরচেনা, অতি আপন কর্মস্থল ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের জানাযা দিতে পারলেন না, এর চেয়ে অমানবিক ও দুভার্গ্যজনক ঘটনা আর কি হতে পারে।

২৭ নভেম্বর ফুলবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজে ঢুকে ছাত্র-শিক্ষকদের অমানসিক গণপিটুনি দেয় ওসি রিফাত  খান রাজিবের নেতৃত্বে পুলিশ।

মারাত্মক আহত অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে সিবিএমসি হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তার লাশ কোতুয়ালী পুলিশের প্রহরায় থাকে।

পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে সেই অধ্যাপকের লাশ ফুলবাড়ীয়ায় তার কর্মস্থলে প্রশাসন নিতে দেয়নি। জোর করে পাঠিয়ে দেয়া হয় নান্দাইলের গ্রামেরবাড়ী। যেখানে তিনি শেষ শয্যায় চীরতরে ঘুমিয়ে আছেন।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের লাশটি যদি পুলিশী প্রহরায় ফুলবাড়ীয়া নেয়া হতো, তা হলে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হতো তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

এই ৩২ বৎসরে অধ্যাপক আজাদ অন্তত কম করে হলেও ৩২ শ ছাত্রকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। নিরঅংহকরী সদালাপী এই শিক্ষকের লাশ ফুলবাড়ীয়া নেয়া হলে এমপি’র এমপিত্ব চলে যেত না।

তার ছেলে উকালতী শেষ হতো না। ভালুকজান ব্রীজ উদ্বোধন করে ফুলবাড়ীয়ার ওসি সহ পুলিশকে এমপি মোসলেম উদ্দিন হুমকী দিয়ে যদি না বলতো,আমি যেখানে আসতে পারি না, সেখানে আপনি থাকবেন কিভাবে?

এটি ছিল প্রচ্ছন্ন হুমকী। অর্থাৎ রিফাত খান রাজিবকে এই বলে পরোক্ষ হুমকী দিলেন, আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। 

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি ও প্রশাসন বিগত দিনে এমপি মোসলেমের ও তার ছেলের নির্দেশ ছাড়া একচুলও নড়তে পারতো না। তার কাছ থেকে সুবিধাভোগী কিছু সন্ত্রাসী ছিল বাপ-ছেলের হাতিয়ার।

এই হুমকীপরই এমরূপুত্র সেলিম তাদের সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আলম এশিয়া অফিসও আখালিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভাংচুর করে আন্দোলনকারী ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানীর হাতিয়ার করে। ওসি রিফাত এমপি পুত্র সেলিমের চক্রান্ত ভাংচুর নাটকের সিসি ক্যামেরায় ধারণও করা হয়।

কথায় আছে, অপরাধীরা অপরাধের আগে কিছু প্রমাণ রেখে যায়। এখানেও এমপি মোসলেম এবং তার পুত্র সেলিম ঘটনার নেপথ্যে এমন প্রমাণ রেখেছেন- নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে তাদের সংশ্লিষ্টতা বেড়িয়ে আসবে।

অধ্যাপক আজাদের লাশ ফুলবাড়ীয়ায় নিয়ে গেলে কি হতো, বা না হতো সেটা আগাম বলা সম্ভব না হলেও সহকর্মী ছাত্র-শিক্ষকরা যে তাদের প্রিয় শিক্ষকের জানাযা’য় অংশ নিয়ে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত করতে পারতো, তা থেকে বঞ্চিত করার দায়ভার ইতিহাসই নির্দিষ্ট করে দেবে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনীরা দম্ভোক্তি করে কত কিছু বলেছিলেন, যখন ফাঁসির পর লাশ জেলখানা থেকে দাফনের জন্য পাঠানো হয়,তখন কফিনবাহী গাড়ীতে জুতা নিক্ষেপ করে ঘৃণা প্রকাশ করে।

একটি কথা মনে রাখতে হবে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না, তেমনি ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। অত্যন্ত শাসকরা একথাটা মনে রাখলে ভাল হবে।

 

এইবেলাডটকম/রবীন্দ্র নাথ/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71