মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
৩দিনের বৃষ্টিতে থমকে গেছে ৬০ হাজার একর জমির লবণ চাষ
প্রকাশ: ০৫:০৭ am ২৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:০৭ am ২৩-০৪-২০১৭
 
 
 


কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার জেলাব্যাপী তিন দিনের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জেলার ৬০ হাজার একর জমির লবণ চাষ।

আর দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন মৌসুমে এ বৃষ্টিতে কয়েক কোটি টাকার লবণ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে লবণ চাষিরা। তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২ লাখ টনের বেশি লবণ। ফলে কয়েক অর্ধশত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এক সপ্তাহ লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকার আশংকা করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলার লবণ চাষিরা। বৃষ্টির ফলে লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে দেশের বৃহত্তম লবণ শিল্প এলাকা কক্সবাজার সদরের ইসলামপুরে লবণ কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে, লবণ চাষি কমিটির নেতা ও বিসিক কর্মকর্তা বলছেন, সাময়িক এ ক্ষয়ক্ষতি লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব ফেলবেনা।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলার হাজার হাজার লবণ শ্রমিক, চাষী ও ব্যবসায়ীরা আবহাওয়া অনূকূল থাকার স্বপ্ন নিয়ে আশাতীত ফলনের আশায় লবণ চাষাবাদ শুরু করে। কিন্তু গত ১০মার্চ মাসের প্রবল বৃষ্টিতে লবণ চাষাবাদ প্রায় ৪/৫দিন পিছিয়ে যায়। আবারো গত ৩ এপ্রিল হতে টানা কয়েকদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও দূর্যোগ আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় লবণ চাষাবাদ ব্যাহত হয়। প্রচন্ড গরমের পর গত ২০ থেকে ২২ এপ্রিল তিনদিনের কাল বৈশাখীর বৃষ্টিপাতে মানুষ ক্ষণিক স্বস্তি পেলেও জেলার লবণ চাষে ক্ষয়ক্ষতির বিরাট ধাক্কা বলে চাষাবাদে নিয়োজিত চাষীরা মত প্রকাশ করেন।বিশেষ করে জেলার লবণ উৎপাদনকারী এলাকা মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলায় বৃষ্টির পানিতে মাঠের মধ্যেই লবণ ভেসে যায়। বিশেষ করে পলিথিন পদ্ধতিতে উৎপাদিত সাদা লবণ পানির সাথে মিশে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে কৃষকেরা জানান। 

স্থানীয় বিসিক লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আবছারউদ্দিন বলেন, এ বছর দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। আর ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমের চার মাসে জেলার প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু তিনদিনের বৃষ্টিতে এসব মাঠে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।আর বৃস্টি বন্ধ হলে মাঠকে উৎপাদন উপযোগী করতে আরো ১০ দিন লাগবে। এতে উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন লবণ কম হবে। ফলে জেলার প্রায় ৬০ হাজার প্রান্তিক লবণচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি আরও জানান,সামনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ সাময়িক ক্ষতিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোন ধরণের ব্যাঘাত ঘটবে না।
বাংলাদেশ লবণ চাষি সংগ্রাম কমিটির সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী জানান,চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে কয়েক দফা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও মৌসুম শুরুর আগে চাষ শুরু হওয়ায় দেশে লবণের কোন ঘাটতি হবেনা।আর চলতি বছর লবণ মৌসুম শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রতি একরে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ মণ লবণ উৎপাদন করতে পেরেছে। আবাহাওয়া অনুকুলে থাকলে রবিবার সকাল থেকে কৃষকেরা আবারও মাঠে নামবে। তবে মাঠে আবার লবণ উৎপাদনে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
অপরদিকে কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের জানিয়েছেন,তিনদিন ধরে থেমে বৃস্টির পর রবিবার থেকে আবারও বৃষ্টি হলে মাঠ পর্যায়ে লবণ উৎপাদন বিলম্বিত হবে।এতে করে দেশের বৃহত্তম লবণ শিল্প এলাকা সদরের ইসলামপুরের উৎপাদনশীল কারখানাগুলো কাঁচামাল সংকটে পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশব্যাপী পরিশোধিত লবণের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।এ অবস্থায় কাঁচামালের সংকট হলে চাহিদা পূরণ করতে অসম্ভব হয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এইবেলাডটকম/চঞ্চল/গোপাল
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71