সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শিবগঞ্জে পরিচর্যায় ব্যস্ত সর্বস্তরের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা
প্রকাশ: ০৯:৫৬ pm ০৯-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:০৯ am ১০-০২-২০১৭
 
 
 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সর্ব বৃহত্তম উপজেলা শিবগঞ্জ। এই উপজেলার প্রায় মানুষ আমচাষ ও ব্যবসার সাথে জড়িত।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আগাম বার্তা বহন করছে মৌসুমী ফল আমের মুকুল। ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে এই জাতীয় বৃক্ষ আম গাছের মুকুল। তবে, গেল বছরের তুলনায় এবার বৃদ্ধি পেয়েছে আম্রকানন।

গেল বছর উপজেলার ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। আর এবছর আম্রকাননের বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭৫০ হেক্টর।

উপজেলার ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমের সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি আম মৌসুমে উপজেলার ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ লাখ ৫২ হাজার ৫০০টি গাছে আম উৎপাদন হবে।

এদিকে আগাম কৃষকদের মাঝে আশার আলোই সাড়া দিচ্ছে মৌসুমী ফল আমের মুকুল। গাছে গাছে মাথা উঁচু করে উঁকি দিতে শুরু করেছে ফলের রাজা আমের মুকুল।

আর এরই পাশাপাশি ব্যস্ত মুখর হয়ে উঠেছে শিবগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের আমচাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এদিকে আমের বাগানগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর মুকুলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন আম বাগানে ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তবে, এবছর গাছে মুকুলের অবস্থা ভালো বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম আমিনুজ্জামান।

এছাড়া গাছে আমের মুকুল দেখে কৃষক, আম ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এদিকে মোবারকপুর এলাকার আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্তরত কৃষক আবদুস সালাম, কাইযুর রেজা, কানসাটে হেলাল উদ্দিন, রমজান আলী, শ্যামপুরের আবদুর রাজ্জাক, আলফাজ উদ্দিন, বিনোদপুরের ইব্রাহিম, আবদুল ওদুদ সহ অনেকে জানায়, গত বছরের তুলনায় এবছর গাছে মুকুলের অবস্থা ভালো।

যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ কম হয় তাহলে এবছর আম ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। আর যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ অক্তিরিক্ত হয় তাহলে বরাবরের মত আম ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। অন্যদিকে আম ব্যবসায়ী, রবিউল ইসলাম, রেজাউল করিম, আনোয়ান হোসেন, আমিনুল ইসলাম, সেরাজুল ইসলাম সহ অনেকে বলেছেন, সবেমাত্র গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

বর্তমানে মুকুলে অবস্থা ভালো। আমরা আশার আলো দেখছি। আ্ল্লাহ যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেয় তাহলে আমরা এবছর অনেক লাভবান হবো। শীতের সকালে যদি তীব্র বা ঘন কুয়াশা না পড়ে তাহলে মুকুলের কোন ক্ষতি হবে না।

আর যদি ঘন কুয়াশা , ঝড় বৃষ্টি হয় তাহলে এর বিপরিত অর্থাৎ মুকুলের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছি। এছাড়া মুকুলকে বালাইনাশক ব্যাটেরিয়ার হাত থেকে রক্ষার্থে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে সর্বস্তরের কৃষকদের।

আর কয়েকদিন পর উপজেলার বিভিন্ন আম বাগানে শতভাগ মুকুল আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে, গত বছরের তুলনায় এবছর আমের মুকুলের অবস্থা ভালো।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবছর প্রায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৭২ হাজার ৬২৫টি ফজলী, ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০টি আশ্বিনা, ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫টি ল্যাংড়া, ৬০০ হেক্টর জমিতে ৪৫ হাজার টি গোপাল ভোগ, ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ৯৭ হাজার ৫০০টি খিরসাপাত (হিমসাগর), ৪২৫ হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৮৭৫টি বোম্বাই, ৫৬০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪২ হাজার টি লক্ষণ ভোগ, ৮২৫ হেক্টর জমিতে ৬১ হাজার ৮৭৫টি গুঠি ও ৯৪০ হেক্টর জমিতে ৭০ হাজার ৫০০টি অন্যান্য জাতের আম গাছে আম উৎপাদন হবে।

 

এইবেলাডটকম/ইমরান/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71