বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
প্রাকৃতিক দূর্যোগ পিছু ছাড়ছেনা, ঝড়-বৃষ্টি আতঙ্কে রয়েছে যশোরের হাজারো কৃষক
প্রকাশ: ০৩:২৪ am ২৪-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:২৪ am ২৪-০৪-২০১৭
 
 
 


বেনাপোল প্রতিনিধিঃ প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা যশোরাঞ্চলের বোরো চাষিদের। ছত্রাকজনিত নেক ব্লাস্ট রোগের পর এবার ঝড়-বৃষ্টি আতঙ্কে রয়েছে হাজারো কৃষক।

কারণ যশোরের মাঠে মাঠে এখন চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। এরই মাঝে গত দুদিন ধরে এ অঞ্চলে মাঝে মধ্যে হালকা মাঝারি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হতেই আছে। আকাশের গুমটে ভাব যেন দূর হচ্ছেনা। এতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় রয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।

যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মঠে মাঠে সোনালী ধানের দোলা দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের উৎসব বিরাজ করছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। কালবৈশাখী ঝড়ের আগেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসলকে ঘরে নিতে চান। 

তবে গত কয়েকদিন ধরে আকাশে গুমট ভাব কৃষককে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। তার শঙ্কায় আছেন কখন নাজানি শিলা-বৃষ্টিতে তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে।

ঝিকরগাছার কৃষক বাবলুর রহমান জাানান,এমনিতেই এ অঞ্চলের বোরো ক্ষেতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে পরিপক্কতা আসার আগেই ধানের থোড় শুকিয়ে চিটা ধরেছে। এতে ফলন কম হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পরে। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন এসব কারণে ধানের দাম আরও কমতে পারে। সর্বশেষ ধানকাটার পুরো মৌসুমে আবহাওয়ার এ লুকোচুরি খেলায় কৃষক শঙ্কিত।

যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকার কৃষক আমজাদ আলী বলেন, এবছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনবিঘা জমির ধানকাটা হয়েছে। কাটা ধান মাঠে শুকানোর জন্য বিছানো রয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মাঠেই চলছে ধানকাটার উৎসব। আর কয়েকদিনের মধ্যেই এসব ধান কৃষকের ঘরে উঠবে। তাই ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। 

একই এলাকার কৃষক রমজান আলী জানান, আকাশে যে মেঘের অবস্থা বিরাজ করছে তাতে করে শিলা-বৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, মাঠে এখন প্রতিটি ক্ষেতেই ধান পেকে উঠেছে। তবে কৃষক না পাওয়ায়  ধানকাটা সম্ভব হচ্ছেনা। 

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর অঞ্চলে এবার ৩ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।  এ মধ্যে যশোর জেলার আট উপজেলায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে। আর উপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন। এখন যশোর জেলার ৮ উপজেলার অধিকাংশ মাঠ ধানের শীষের পাকা সোনালী রংয়ে ছেয়ে গেছে। যেদিকে দৃষ্টি যায় শুধু পাকা ধান আর ধান। কেউ ধান কাটছে কেউ কাটা ধান কাধে করে নিয়ে আসছে বাড়িতে। 

গত আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার অধিকাংশ আমন ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বোরো আবাদ করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্য কৃষক। কিন্তু শেষ সময়ে বৈরী আবহাওয়া চিন্তায় ফেলেছে কৃষকদের। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু জানান, বোরো ক্ষেতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের তেমন সমস্যা হয়নি।

এতে উৎপাদনে কোন প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, যশোর অঞ্চলে এবার ৩ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩ হেক্টর জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সামনে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে কৃষক বোরো আবাদে বেশ লাভবান হবেন।

 

এইবেলাডটকম/মহসিন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71